চেতনা বাহক - তসলিমা নাসরিন।
সৌম্যজিৎ।
মানবাধিকারের কথা বলতেই তোমায়, ধেয়েছে ওরা নিপাত করতে।
পথে পথে প্ল্যাকার্ড, পোস্টার "তসলিমা নাসরিন নিপাত যাক।"
কি এমন করেছিলে তুমি বলেছিলে ওদের মানুষ গড়তে?
মানুষ গড়া অত সহজ যখন মাদ্রাসা গড়ে হার্মাদ, খুনি?
লজ্জায় দেশ মুখ লুকোয়, পতাকাও নিম্নাভিমুখী।
গোঁড়ামি ছিল ইসলাম ধর্মে, ওরা দেখিয়েছে ওদের জাত,
বাংলাস্থানে ঠাই পাওনি, হারিয়েছ তোমার কাপড়-ভাত।
আসলে বাঁচতে ইন্ডিয়াতে, ঠিকানা আরেক বাংলা- পশ্চিমবাংলা,
পরিচয় দিল রাজনীতি, "হাতে মারা নয়, মস্তিষ্ক জোরে, ভয় দেখিয়ে দমিয়ে দিল ওরা।"
লড়াইটা তো ছিল অশোক তোদির, ভাড়াটে লোকে মারল রিজয়ানকে, মারল তোদির পোষা কুকুর,
রিজওয়ান সমর্থক রাস্তায় প্রতিবাদী মিছিল গড়ল, "প্ল্যাকার্ড হাতে হাতে, রিজওয়ান খুনের বিচার চায়।"
সঙ্গে ছিল সিঙ্গুরকান্ড, কলকাতা তখন বিধ্বস্ত,
বিরোধী গোষ্ঠী, পড়ুয়া গোষ্ঠির হরতালে সরকার রচল নতুন ফন্দি।
রাস্তায় নামল মিলিটারি জওয়ান, আরও কিছু পোষা গুন্ডা,
সাজানো একটা লড়াই দিল, "তসলিমা নাসরিনকে বহিস্কার কর।"
আঘাত কি শুধু ইসলাম দিয়েছে? দিয়েছে তো হিন্দু মৌলবাদও,
কাকে ছেড়ে কাকে বলবে, এটাই আমাদের পুরুষতন্ত্র,
"জোর যার, মুলুক তার।"
আদর্শের প্রশ্বাস ওরা নিতে শেখেনি, নিয়েছে ক্যাডমিয়াম মেশানো বিষাক্ত বাতাস,
ফুসফুসে ওদের কোরাপশান ঢুকে, তুমি তো নিতান্তই নগন্য।
যুগে যুগে তুমি নারী হও, আমি চাই তুমি নারী হও,
যুগে যুগে তুমি এসে ওদের মুখে ফিরিয়ে দাও লজ্জা,
ওরা যদি কখনো মানুষ হয়, লজ্জা ওরা পাবেই,
সংগ্রাম তবু মুছবেনা কখনো, তুমিই দেবে লজ্জা।
যুগে যুগে তুমি তসলিমা নাসরিন, অমর হও মানুষ চেতনায়,
ইতিহাস বলবে তুমি নও বিদ্রুপাত্মক,
তুমি ছিলে স্বাধীনতা চিন্তার অগ্রগতির বাহক।
যুগে যুগে আমি আসবো ফিরে, তোমাকে সম্মান দিতে,
যুগে যুগে তুমিই এস মানুষ চেতনা ফেরাতে।
(যুগে যুগে তুমি নারী হও এই লাইনটা আমি জন্মান্তরের উদ্দেশ্যে লিখিনি, জন্মান্তরে বিশ্বাস করিনা, আমি বলতে চেয়েছি, যুগে যুগে সমস্ত নারীর মধ্যে তসলিমা চেতনা জন্ম নিক।)
No comments:
Post a Comment