মুক্তচিন্তা ও সচেতনতা।
সৌম্যজিৎ দত্ত।
সমকামিতা একটা স্বাধীনতা। ঠিক যেভাবে নারী ও পুরুষের মধ্যে বিপরীতকামিতার স্বাধীন চিন্তা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে ও সমাজ তাদের অনুমতি দিচ্ছে, একইরকম ভাবে সমকামিতাও কিছু মানুষের চিন্তার মধ্যে জন্ম নেয়। সমাজের চোখে এটা ঘৃণ্য ও ছি:ছি: করার মত কিছু নেই। খুব সাধারণ একটা ব্যাপার। মানুষ যদি নিজের চিন্তার স্বাধীনতার দাবিতে সমকামী হতে চায় নিজেদের ইচ্ছাতেই, তবে তাদের সেই চিন্তাকে একইভাবে গুরুত্ব ও পূর্ণ মর্যাদা দেওয়া উচিৎ। সেটাই সমাজে চিন্তার অগ্রগতি ও অভিযোজন।
একইরকমভাবে দুটো মানুষের প্রেমজ সম্পর্কে আজও জাত ও ধর্ম বৈষম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একটা বিয়ের সম্পর্ক শুধু দুটো মানুষের মানুসিক ও শারীরিক মিলন নয়, দুটো পরিবারের মানুষদের একে অপরের সাথে মানুসিক মিলনও। তাইবলে যখন দুটো মানুষ একে অপরের ইচ্ছাতে একসাথে থাকতে চায়, সেখানে তাদের চিন্তাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ।প্রতিটা মানুষের অধিকার আছে নিজেদের সঙ্গী বেছে নেওয়ার। সেখানে জাত ও ধর্ম বৈষম্য কখনই স্থান পায়না। কিন্তু আজও দেখা যাচ্ছে সমাজের একটা বৃহত্তর অংশ জাত ও ধর্ম বৈষম্যের শেকলে পরাধীন হয়ে আছে। এই বৈষম্য থেকে মুক্ত হয়ে নতুন চিন্তা করা ও ব্যক্তিস্বাধীনতাকে প্রাধান্য দেওয়া তাদের কাছে নিছকই বেয়াদবিপনা।জাত ও ধর্ম বৈষম্যে আবদ্ধ থেকে চিন্তার অগ্রগতি কখনই সম্ভব নয়। চিন্তা কখনই এভাবে অভিযোজিত হতে পারেনা। যদি ব্যক্তিস্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে যেকোনো মানুষ তাদের পছন্দ মত সঙ্গী বেছে নিতে পারে, পছন্দের মানুষটার সাথেই জীবন গড়তে পারে। এটাই চিন্তার স্বাধীনতা, এটাই মুক্তচিন্তা।
দুটো মানুষ একে অপরের সাথে থাকতে চায়লে ও কোনরকম বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ না হয়েই থাকতে চায়লে, তাদের এখনো সমাজ সোজা চোখে দেখেনা। বিশেষ করে সেখানে নারীদের ভীষনভাবেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। সমাজ নানারকম কটুকথায় তাদের জীবন অসহনীয় করে তোলে। এখানেও ব্যক্তিস্বাধীনতা লঙ্ঘন হয়। দুটো মানুষ তারা বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ থেকে সম্পর্ক গড়বে বা আবদ্ধ না হয়েই সম্পর্ক গড়বে, সেটা তাদের নিজস্ব মত। সমাজ কখনই সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারেনা। কোনো ম্যারেজ এক্টও তাদের রাস্তাতে বাধা হতে পারেনা। এখানেও সমাজের গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ ব্যক্তিস্বাধীনতাকে।
"আমি যা ইচ্ছা তাই বলতে পারি, যা ইচ্ছা তাই করতে পারি" এটা যেমন আমার স্বাধীনতা, তেমনই অন্যদের ওই বলতে পারা বা করতে চাওয়া গুলোকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে চিন্তার একটা নতুন দিক উন্মোচন করাটাই হল মুক্তচিন্তা।
মুক্তচিন্তায় কখনো কোনো ধর্মবৈষম্য, গোড়ামি স্থান পেতে পারেনা। তুমি ধর্ম পালন করতেই পারো, সেটা তোমার স্বাধীনতা। কিন্তু একজন মানুষ ধর্ম পালন করবেনা বলে তাকে জোর করে ধর্ম চাপিয়ে দেওয়া নতুবা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া তোমার স্বাধীনতা নয়। ব্যক্তিস্বাধীনতা স্থান পায় চিন্তাতে, আপন সত্ত্বাই। ব্যক্তিস্বাধীনতা কখনই বলপূর্বক চাপিয়ে দেওয়াতে স্থান করে নিতে পারেনা। মুক্তচিন্তার স্বাধীনতাই মানুষের চিন্তার অগ্রগতি ও সমাজের সচেতনতা।
No comments:
Post a Comment