Friday, 8 April 2016

খারাপ লাগছে একটা কথা মাথাতে আসতেই যে, আজ আমাকে মানবিকতার দাবি জানিয়ে সরকার মহলের কাছে, সংবাদমাধ্যমের কাছে চিঠি পাঠাতে হচ্ছে। মানবিকতার দাবি জানাতে হচ্ছে। খারাপ লাগছে এই ভেবে যে, এটা একবিংশ শতক ও আমাদের দেশ পৃথিবীর মধ্যে নামকরা রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পড়ে বলে সবাই গর্ব করে, অথচ আজও সাধারণ মানুষকে এই দেশে নিজের অধিকারের দাবি জানাতে হয়। মন্ত্রিমহল, সমাজের উঁচু স্তরের মানুষ ও চিন্তাভাবনাহীন একগুঁয়ে মানুষগুলো গর্ব করে বলে আজ ভারত শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সেরা তালিকা ছুঁয়েছে। ওটা শুধুই নামের তালিকা। এই দেশের মধ্যে কি হচ্ছে?

১) লেখিকা নির্বাসিত। 
২) মন্ত্রীদের টাকা চুরি কেলেঙ্কারী। 
৩) ৩৪ বছর, ৫ বছরের অপশাসন ও নাজানি কত অপশাসন হতে চলেছে আরও। 
৪) শিক্ষাস্তরে ভোটের নোংরা রাজনীতি ও বোমাবাজি। 
৫) বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে নাশকতা। 
৬) রেল বিভ্রাট। 
৭) সরকারী চাকরি অস্তগামী। 
৮) ঘুষ কেলেঙ্কারী। 
৯) ধর্ষণ, খুন। 
১০) ক্লাব গোষ্ঠীগুলোর দাদাগিরি। 
১১) প্রতারণা আরও কত কি!!

এতকিছুর পরেও আমাদের দেশ নাকি পৃথিবীর সেরা দেশ।  এমন একটা দেশ যেখানে রাজনৈতিক অরাজকতার ঘেরাটোপে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে লেখক, বুদ্ধিজীবি প্রত্যেকের ওপরেই চোখ রাঙানি চলে। এখানে পড়াশোনা জানা মানুষেরা নিরক্ষর মন্ত্রীদের চাকরগিরি করেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়। এমন একটা দেশে আজ আমাকে মানবিকতার দাবি জানাতে হচ্ছে। এই দাবি আমার লজ্জার, আমার অগৌরবের। মাথা হেঁট হয়ে যায়। এখানে পথে পথে সরকারি ও বেসরকারি দালালগুলো হাত যশ করে মন্ত্রিত্ব পেয়ে যায়। আবার আমার মত কোয়ালিফাইড মানুষেরা সেইসব মন্ত্রীস্বীকৃত দালালদের উঠতে বসতে তোষামোদী করে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে। আমার মাথা ভীষণ হেঁট হয়ে যায় এসব দেখে। শরীরের মধ্যে জ্বালাপোড়া ধরে যায়। মনেহয় আমরা কোনো শিক্ষিত সমাজের অংশ নই, বরং অশিক্ষিত মন্ত্রীদের তোষামোদী করতে বছরের পর বছর ধরে শিক্ষিত হচ্ছি। 


আজ আমি যে লড়াইটা শুরু করেছি প্রকাশ্যে, সেই লড়াইয়ের আদর্শ আমি তসলিমা নাসরিনের কাছথেকে শিখেছি। আজ আমার ভীষণ লজ্জা করছে এটা দেখে, রাস্তাতে প্রকাশ্যে একটা মানুষও এই লড়াইতে আমার পাশে নেই। আছে শুধু পিছন থেকে সান্তনা দিতে, "এগিয়ে যাও সৌম্যজিত। আমি আছি তোমার সাথে।" একটা কথার কথা শুধু মাত্র। আমার মাথা বড্ড হেঁট হয়ে যায়। 

No comments:

Post a Comment