আমার জীবনের কিছু কথা যা আমি নিজের সাথেই বলেছি, করেছি।
সৌম্যজিৎ দত্ত।
মাধ্যমিকে খুব সাধারণ মানের রেজাল্ট করে সাহস করেই সায়েন্স নিয়ে পড়া শুরু করি। কিন্তু মানুসিক টানাপোড়েনে সুবিধা করতে পারিনা। উচ্চমাধ্যমিকেও খুব সাধারণ মানের রেজাল্ট করে পাশ করি। পরে ইংরাজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শুরু করি, কিন্তু অঙ্ক না থাকায় হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। তাই পরে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করি। কম্পিউটার সায়েন্সেও অনেক বাধা বিপত্তি এড়িয়ে কোনরকমে শেষপর্যন্ত ভালো ও সম্মানজনক নাম্বার নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর হই। তারপর আমার ফাইনাল প্রজেক্ট আই এস আই এর এক প্রাক্তন অধ্যাপিকার হাতে এসে পড়ে। কিভাবে উনি দেখেছিলেন আমি জানিনা, তবে দেখার সাথে সাথেই উনি আমাকে চিঠি লিখে দেন আই এস আই তে রিসার্চ করার জন্য। শুরু হয় পি এইচ. ডি পড়াশোনা। ফাইনাইট অটোমাটা জীয়মেট্রির ওপরে। ইতিমধ্যে তসলিমা নাসরিনের লেখা আমাকে প্রভাবিত করতে শুরু করে। আমি অবসর সময়ে ওনার লেখাগুলো পড়তে থাকি। আমার হৃদয় ছুঁয়ে যায় লেখাগুলো। ছোটথেকেই কল্পনার শক্তি আমার তীব্র, তাই তসলিমা নাসরিনের প্রতিটা লেখা আমি তীব্রভাবে অনুভব করতে থাকি। এমনভাবে অনুভব করি যেন তসলিমা নাসরিন আলাদা কোনো মানুষ নয়, আমিই তসলিমা নাসরিন ও আমার জীবনেই এইসব ঘটেছে। তারপর হঠাৎ করে ফেসবুকের মাধ্যমে ওনার সাথে পরিচয় হয়ে যায়। আমি একটা নতুন আদর্শ খুঁজে পাই আমার পড়াশোনার বাইরে।
তসলিমা নাসরিনকে এভাবে অনুভব করতে করতেই ওনার প্রতি একটা অদ্ভুত দুর্বলতা এসে যায় আমার। আমি মনে প্রাণে মানুষটাকে ভালোবেসে ফেলি। অসম্ভব দুর্বলতা তৈরী হয়, যেন এই মানুষটার জন্য আমি সব করতে পারি, গোটা যুদ্ধক্ষেত্রে একা বুক চিতিয়ে লড়াই করতে পারি। তাকে আবেগ দিয়ে ভালবাসতে পারি, তার আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে আমি একাই যথেষ্ট এমনটাই মনে হতে থাকে। শুরু হয় আমার লেখালেখি। আমি জানি আমার লেখা ব্যাকরণগত নয়, আমার কবিতাগুলো বড্ড গদ্যের মত। কিন্তু যাকিছুই লিখি, মন দিয়ে লিখি, ভালোবেসে লিখি। লেখাতে আদর্শকে তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমার প্রথম যে লেখাটা পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়, সেটা ছিল তসলিমা নাসরিনকে ফিরিয়ে আনতে ও সমাজে আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে, সরকারের কাছে আমার ক্ষোভ প্রকাশের কবিতা। সরকারকে উদ্দেশ্য করে লেখা ছিল। লেখাটা আমি তসলিমা নাসরিনকে উৎসর্গ করেছিলাম। "সরকার ও মানবিকতা, আমার ডাক।" পরে প্রকাশকের ইচ্ছাতে অবশ্য নামটা দাঁড়ায় "সরকার ও মানবিকতা।" বিষয়বস্তু অক্ষুন্ন রাখা হয়েছিল। বাংলার বুকে দাঁড়িয়ে ডিরেক্ট সরকারকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলাম কবিতাটা। কারোর সাথে আপোষ করিনি। প্রকাশকও সাহস দেখিয়েছিল এমন একটা লেখা প্রকাশ করে। যদিও লেখাটা পড়ার পর কিছু আত্মীয় ও প্রতিবেশীর সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় আমাকে। কিছু হুমকিও আসে, সেসবকে পাত্তা দিইনি। লেখাটা যেদিন প্রকাশিত হয়েছিল, সেদিন আমার আরও বেশি আনন্দ হয়েছিল আরেকটা ব্যাপারে। সেদিন আমার অনুরোধে আমার মেয়েমা তসলিমা নাসরিন আমার আরেকটা লেখা "অগ্নি উৎস তুমি তসলিমা নাসরিন" ওনার টাইমলাইনে শেয়ার করেছিলেন। দিনটা আমার কাছে স্বপ্নের মত ছিল।
আজ আমি আদর্শের একটা লড়াই শুরু করেছি, একাই শুরু করেছি। কিন্তু যত সময় যাচ্ছে, আমি যেন আহত হচ্ছি, অগ্রাহ্যতার শিকার হচ্ছি। অগ্রাহ্য করলে সেটা মেনে নিতে কষ্ট হয়। সরকারপক্ষের কাছে, সংবাদমাধ্যমের কাছে আমার লেখা চিঠিগুলোর কোনো সাড়া পাচ্ছিনা। ভীষণ একা লাগছে নিজেকে। ভেঙে পড়ছি। আমার একটু উৎসাহ প্রয়োজন বোধ হচ্ছে। অনেকদিন হয়েগেল, মেয়েমার টাইমলাইনে আমার কোনো লেখা দেখতে পাইনা। ওটা সাইকোলজিক্যালি ম্যাজিকের মত কাজ করে।
No comments:
Post a Comment