"তুই মেয়ে তাই রেসট্রিকটেড, তুই ছেলে তাই আনরেসট্রিকটেড" ---- চিন্তাই নারীকে দুর্বল করে তোলে, পুরুষকে বুঝিয়ে দেয় নারী দুর্বল।
দৈহিক বল ও মানুসিক বল এক নয়। তাছাড়া নারীকে জন্ম থেকে দৈহিক দুর্বল করা হয় মানুসিক ভাবে। জন্মানোর পর থেকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় তুমি নারী, তাই তুমি পুতুল খেলবে, তুমি ঘরে থাকবে, তুমি দুর্বল, তুমি ফ্রক পরবে, চুড়িদার পরবে, চুল বড় রাখবে, চুলে বিনুনি করবে। গোটা সিস্টেমটাই খারাপ। এভাবে মানুসিক ভাবে দুর্বল করা হয় বলেই নারী দুর্বল হয়ে যাই শারীরিক ভাবেও। উল্টোদিকে একটা ছেলেকে খেলার জন্য বন্দুক দেওয়া হয়, প্যান্ট শার্ট পরতে দেওয়া হয়, বলা হয় তুমি ছেলে, সমস্ত ব্যাপারে তুমি স্বাধীন। তোমার গায়ে শক্তি বেশি, তাই তুমি বাইরে লড়াই করতে পারো।
শুধুমাত্র এইসব সাইকোলজিক্যাল ট্রিটমেন্টের জন্যই জন্মানোর পর থেকে মৃত্যু অবধি নারী দুর্বল থেকে যায়। এই সিস্টেমকে বদলাতে হলে জন্ম থেকেই বদলাতে হবে। অভিভাবকদের বলছি, আপনারা শিশুকে নারী-পুরুষ ব্যবধানে দেখবেননা। কন্যা সন্তান জন্মালেই আপনাদের মাথাতে চিন্তা চলে আসে, মেয়ের বিয়ের। সেই শিশু বড় না হতেই চিন্তাগুলো আপনাদের মাথাতে চলে আসে। আপনারা নিজেরাই মানুসিক ভাবে দুর্বল হয়ে ওঠেন। আপনাদের এই দুর্বলতার ছাপ পড়ে আপনাদের কন্যা সন্তানের ওপর। মেয়েরা এই দুর্বলতা থেকেই নিজেদের দুর্বল ভাবতে শুরু করে। আবার ছেলে সন্তান জন্মানো মানেই আপনাদের মনে উল্লাস আসে, যেন বড় কোনো যুদ্ধ জয় করে ফেলেছেন। আপনারাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে আপনাদের সন্তানদের বুঝিয়ে দেন, "তুই মেয়ে, তুই দুর্বল। তুই ছেলে, তুই শক্তিশালী।" পরিণাম আপনার কন্যা সন্তান সারাজীবন অবলম্বনের উপর ভরসা করে কাটিয়ে দেয়।
সৌম্যজিত দত্ত।
No comments:
Post a Comment