Wednesday, 8 March 2017

নারী দিবস নিয়ে চারিদিকে নানারকম পোস্ট দেখছি, যেন নারীকে সম্মান দিতে আজ সব পুরুষ নারায়ণ হয়ে গেছে। এসব দিবস টিবস বলে স্মরণীয় করার কি প্রয়োজন! স্মরণীয় করা হচ্ছে কারণ দিনটা ফুরোলেই আবার সময় পুরুষের হাতে চলে আসবে আর পুরুষ ইচ্ছামতো নারীকে ফ্রেম করে মালা চড়াবে এইজন্য! পুরুষের মধ্যে সহজাত প্রবণতা হল দাদাগিরি। সে হয় এটা বাইরের মানুষদের সাথে করবে, নয়ত বাড়িতে এসে বৌ পিটিয়ে করবে, মেয়ে পিটিয়ে বা বোন পিটিয়ে করবে। দাদাগিরি একটা চিন্তা যেটা এক বিশেষ মুহূর্তে বা সমস্ত মুহূর্তে যখনই মাথায় চেপে বসে, তখন মানুষকে মানসিকভাবে কিছুটা বলশালী করে দেয়। এযাবৎকাল এই দাদাগিরিতে পুরুষই বেশি অধিকার করে রেখেছে। সমপরিমাণ দাদাগিরি যদি নারীও রপ্ত করতে পারে, তবে নারীদিবসের প্রয়োজন হয়না। সবদিনই সমান হয় নারী ও পুরুষের জন্য। বাড়িতে যখন পুরুষ মদ খেয়ে এসে বৌ পেটাতে যায়, তখন নারীর মার খাওয়া উচিৎ নাকি সটান তারও উচিৎ পুরুষকে পিটিয়ে দেওয়া? কারণ অবচেতন ও নেশাগ্রস্ত মস্তিষ্ককে তো ভালো কথা বোঝানো যায়না। রাস্তায় যখন পাঁচজন পুরুষ নারীকে ঘিরে ধরে তখন নারীর কি তাদের হাত, পা ধরে মুক্তি প্রার্থনা করা উচিৎ? নাকি সমান রোয়াপে সেই পুরুষগুলোকে আক্রমণ করা উচিৎ ইতিবাচক ভঙ্গিতে যাতে পুরুষগুলো হয় নিজেদের কৃতকর্মে লজ্জিত হবে অথবা ভয় পাবে? এক পুরুষ হয়ে পুরুষ মস্তিষ্কের একটা কথা আমি বলে দিই। যখন পুরুষ দেখে যে সামনের ঘটনা বিশেষ করে নারীকে নিয়ে তার চিন্তা তার প্রত্যাশার বাইরে বা প্রত্যাশার থেকে অনেকগুন বেশি, তখন সেই পুরুষের চিন্তার মধ্যে একপ্রকার বিশ্বাস - অবিশ্বাসের দ্বিধা চলে। সেই মুহূর্তে হয়ত সে বাইরে থেকে সমান আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখানোর চেষ্টা করলেও, ভিতরে সাহস কিছুটা কমে যায়। অর্থাৎ সে কিছুটা দুর্বল হয়ে ওঠে। সেই মুহূর্তে যদি নারী ইতিবাচক থেকে দাদাগিরি করে, তবে সেখানে সেই পুরুষের হার নিশ্চিত। এসব নারীদিবস টিবস করে কি হবে! নারী ও পুরুষের জন্য সবদিনই সমান হয়ে উঠুক। সবাই মুক্ত থাকুক, ভালোবাসায় বাঁচুক। 

No comments:

Post a Comment