প্রত্যাবর্তন।
উৎসর্গ - মেয়েমাকে।
সৌম্যজিৎ।
আজ আবার বহুদিন পর তোমায় দেখেছি,
কোনো এক অনুষ্ঠান সমাবর্তন চত্বরে একটা ঘরে -
একাকী তুমি বসেছিলে,
মুখ্য অতিথি হয়ে এসেছিলে।
বাংলায় তোমার প্রত্যাবর্তন হয়েছিল,
মাত্র একদিনের জন্য তুমি ফিরেছিলে বাংলায়,
আমিও গেছিলাম সেই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে,
হঠাৎ শুনি তুমি এসেছ,
আমি অস্থির হয়ে উঠি তোমায় দেখতে, একটিবার ছুঁতে,
তোমায় জড়িয়ে ধরতে।
মুখ থেকে হাসি আর চোখ ফুটে জল এসেগেছিল -
যখন তোমায় দেখি।
কাছে গিয়ে পিছনে দাঁড়াই,
তোমার গায়ের পারফিউমের গন্ধটা নাকে আসছিল,
অস্ফুট ভাঙা আওয়াজে তোমায় মেয়েমা ডাকি,
তুমি যখন ফিরে তাকালে আমার দিকে,
মনেহল প্রবল দুশ্চিন্তার মধ্যেও আমায় দেখতে পেয়ে -
নিশ্চিন্ত লাগছে তোমাকে।
আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরতে চাইছি মেয়েমা বলে,
"আমার মেয়েমা" বলে তোমার মাথায়, গালে ছুঁতে চাইছি, কিন্তু -
আমার শরীর যেন স্থির হয়ে গেছে শক্ত কাঠের মতো,
আমি নড়তে পারছিনা, সরতে পারছিনা,
তোমায় ধরতে পারছিনা,
শুধু প্রাণ ঠিকরে ভালবাসা বেরিয়ে আসছে তা -
উপলব্ধি করতে পারছি।
তোমার গলা থেকে বেরিয়ে আসা মৃদু, শান্ত আওয়াজে
আমি শরীরে চেতনা ফিরে পেলাম,
তোমার হাতে হাত রেখে আবারও বললাম "মেয়েমা,"
তোমার চোখে চোখ রেখে প্রাণ ভরে দেখতে থাকলাম।
কত শান্তি তোমার ওই দুই চোখে মেয়েমা!
আমি যেন সমাজ থেকে বহুদূরে হিমালয়ে বসে থাকা
কোনো এক ধ্যানমগ্ন যোগীর সামনে বসে,
চির শান্তি উপলব্ধি করছি।
মুহূর্তে মনে হল - এ কেমন ফেরা!
মাত্র এক দিনের জন্য ফেরা, তাও একলা একটা ঘরে বসে,
যে ফেরা হওয়া উচিৎ ছিল রাজকীয় ঢঙে,
সে ফেরা আজ এতো স্তব্ধতায়!
না। এ ফেরা তবে সম্মানের নয়,
এ ফেরা তীব্র অসম্মানের,
আমার শরীর মনে তীব্র কাঁটা দিতে থাকে,
আমি ছুটে যাই অনুষ্ঠান কর্মকর্তাদের সভাস্থলে,
বলি আজ বাংলা তনয়ার প্রত্যাবর্তন হয়েছে,
এই প্রত্যাবর্তন এত ধীরস্থির!
লোক জানবে না, জন জানবে না, এই প্রত্যাবর্তন এভাবেই মিশে যাবে!
এই প্রত্যাবর্তনকে সম্মানের সাথে স্মরণীয় করতে হবে।
ওরা অবাক ও ভীত চোখে একে অপরের দৃষ্টি বিনিময় করে,
আমি বলেই আবার তোমার কাছে চলে আসি।
তোমার হাতদুটো ধরে আবারও ডাকি "মেয়েমা।"
তুমি স্নেহের দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালে,
তোমায় বললাম, "আজ তুমি জনসমক্ষে আসবে,
তোমার কথা, তোমার আবেগ তুলে ধরবে,
তোমার ভালবাসা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেবে।"
তোমাকে নিয়ে আসলাম মঞ্চে,
এ কোণ, সে কোণ ঠাসা আমজনতার সামনে
বঙ্গতনয়া এসে দাঁড়িয়েছে,
বঙ্গতনয়ার চোখ, মুখ থেকে
স্নেহ, ভালবাসা ঠিকরে বেরোচ্ছে।
এইতো সেই বাংলা,
এই তো সেই কলকাতা,
এই তো সেই সব প্রেম, সব ভালবাসা জুড়ে থাকা
আবেগের কলকাতা!
তোমার মুখ ফুটে কবিতার বাণী আছড়ে পড়ে,
এদিকে মাতোয়ারা মানুষের ভিড়ে
সম্মোহিত, গোঁড়া মাঝবয়সী কিছু লোকেরা আবারও
তাদের অশিক্ষার রূপ তুলে ধরে।
এবার আবার মুখ্যমন্ত্রীর পালা,
তোমায় পুলিশ দিয়ে আবারও অসম্মান করে
ঘাড় ধাক্কা দিয়ে রাজ্যের বাইরে বার করে দেবে,
চারিদিকে কার্ফু জারি করে দিল,
রাজ্যের হাজার হাজার পোষা পুলিশকে
চেন খুলে ছেড়েদিল এক তোমাকে খুঁজে বার করতে।
এবার তোমার সাথে আমি,
এই সৌম্য ছিল,
সৌম্য তোমার গায়ে আর অসম্মানের আঁচড় লাগতে দেবেনা।
আজ সৌম্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তোমাকে নিয়ে জঙ্গল পেরিয়ে ছুটতে লাগলাম,
সামনের রাস্তা পেরোলেই স্টেশন,
তোমায় দিল্লি পৌঁছতেই হবে।
সামনের রাস্তায় উঠতেই চারিদিক থেকে
পুলিশের বন্দুকগুলো গর্জন করে ওঠে,
আমি তোমাকে ঘিরে ধরে রাস্তার মাটিতে চেপে ধরি,
গুলিতে গুলিতে ঝাঁজরা হতে থাকে আমার পিঠ,
গর্জন থেমে গেলে তোমাকে নিয়ে দৌঁড়ে
রাস্তা পেরিয়ে চলন্ত ট্রেনের পিছনে এক কামরায় উঠতেই,
ট্রেন প্রবল বেগে স্টেশন ছেড়েদিল,
আর কোনো ভয় নেই,
আর ওই মুখ্যমন্ত্রীর পোষা পুলিশেরা
তোমায় ছুঁতে পারবে না,
আর তোমার কোনো অসম্মান হবেনা।
পিঠে গুলিবিদ্ধ আমি
ক্লান্ত হয়ে তোমার কোলে শুয়ে পড়ি,
আবারও অস্ফুট উচ্চারণে বলি "মেয়েমা।"
তোমার চোখ দিয়ে জলের ফোটা আমার মুখে এসে পড়ে,
কি শান্তি সেই ফোটায়!
আর কোনো যন্ত্রনা নেই,
শব্দগুলো আস্তে আস্তে স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে,
তোমার কোলে মাথা রেখে,
একদৃষ্টে তোমার মুখে তাকিয়ে আছি আমি,
আজ আমি মুক্ত ..
উৎসর্গ - মেয়েমাকে।
সৌম্যজিৎ।
আজ আবার বহুদিন পর তোমায় দেখেছি,
কোনো এক অনুষ্ঠান সমাবর্তন চত্বরে একটা ঘরে -
একাকী তুমি বসেছিলে,
মুখ্য অতিথি হয়ে এসেছিলে।
বাংলায় তোমার প্রত্যাবর্তন হয়েছিল,
মাত্র একদিনের জন্য তুমি ফিরেছিলে বাংলায়,
আমিও গেছিলাম সেই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে,
হঠাৎ শুনি তুমি এসেছ,
আমি অস্থির হয়ে উঠি তোমায় দেখতে, একটিবার ছুঁতে,
তোমায় জড়িয়ে ধরতে।
মুখ থেকে হাসি আর চোখ ফুটে জল এসেগেছিল -
যখন তোমায় দেখি।
কাছে গিয়ে পিছনে দাঁড়াই,
তোমার গায়ের পারফিউমের গন্ধটা নাকে আসছিল,
অস্ফুট ভাঙা আওয়াজে তোমায় মেয়েমা ডাকি,
তুমি যখন ফিরে তাকালে আমার দিকে,
মনেহল প্রবল দুশ্চিন্তার মধ্যেও আমায় দেখতে পেয়ে -
নিশ্চিন্ত লাগছে তোমাকে।
আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরতে চাইছি মেয়েমা বলে,
"আমার মেয়েমা" বলে তোমার মাথায়, গালে ছুঁতে চাইছি, কিন্তু -
আমার শরীর যেন স্থির হয়ে গেছে শক্ত কাঠের মতো,
আমি নড়তে পারছিনা, সরতে পারছিনা,
তোমায় ধরতে পারছিনা,
শুধু প্রাণ ঠিকরে ভালবাসা বেরিয়ে আসছে তা -
উপলব্ধি করতে পারছি।
তোমার গলা থেকে বেরিয়ে আসা মৃদু, শান্ত আওয়াজে
আমি শরীরে চেতনা ফিরে পেলাম,
তোমার হাতে হাত রেখে আবারও বললাম "মেয়েমা,"
তোমার চোখে চোখ রেখে প্রাণ ভরে দেখতে থাকলাম।
কত শান্তি তোমার ওই দুই চোখে মেয়েমা!
আমি যেন সমাজ থেকে বহুদূরে হিমালয়ে বসে থাকা
কোনো এক ধ্যানমগ্ন যোগীর সামনে বসে,
চির শান্তি উপলব্ধি করছি।
মুহূর্তে মনে হল - এ কেমন ফেরা!
মাত্র এক দিনের জন্য ফেরা, তাও একলা একটা ঘরে বসে,
যে ফেরা হওয়া উচিৎ ছিল রাজকীয় ঢঙে,
সে ফেরা আজ এতো স্তব্ধতায়!
না। এ ফেরা তবে সম্মানের নয়,
এ ফেরা তীব্র অসম্মানের,
আমার শরীর মনে তীব্র কাঁটা দিতে থাকে,
আমি ছুটে যাই অনুষ্ঠান কর্মকর্তাদের সভাস্থলে,
বলি আজ বাংলা তনয়ার প্রত্যাবর্তন হয়েছে,
এই প্রত্যাবর্তন এত ধীরস্থির!
লোক জানবে না, জন জানবে না, এই প্রত্যাবর্তন এভাবেই মিশে যাবে!
এই প্রত্যাবর্তনকে সম্মানের সাথে স্মরণীয় করতে হবে।
ওরা অবাক ও ভীত চোখে একে অপরের দৃষ্টি বিনিময় করে,
আমি বলেই আবার তোমার কাছে চলে আসি।
তোমার হাতদুটো ধরে আবারও ডাকি "মেয়েমা।"
তুমি স্নেহের দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালে,
তোমায় বললাম, "আজ তুমি জনসমক্ষে আসবে,
তোমার কথা, তোমার আবেগ তুলে ধরবে,
তোমার ভালবাসা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেবে।"
তোমাকে নিয়ে আসলাম মঞ্চে,
এ কোণ, সে কোণ ঠাসা আমজনতার সামনে
বঙ্গতনয়া এসে দাঁড়িয়েছে,
বঙ্গতনয়ার চোখ, মুখ থেকে
স্নেহ, ভালবাসা ঠিকরে বেরোচ্ছে।
এইতো সেই বাংলা,
এই তো সেই কলকাতা,
এই তো সেই সব প্রেম, সব ভালবাসা জুড়ে থাকা
আবেগের কলকাতা!
তোমার মুখ ফুটে কবিতার বাণী আছড়ে পড়ে,
এদিকে মাতোয়ারা মানুষের ভিড়ে
সম্মোহিত, গোঁড়া মাঝবয়সী কিছু লোকেরা আবারও
তাদের অশিক্ষার রূপ তুলে ধরে।
এবার আবার মুখ্যমন্ত্রীর পালা,
তোমায় পুলিশ দিয়ে আবারও অসম্মান করে
ঘাড় ধাক্কা দিয়ে রাজ্যের বাইরে বার করে দেবে,
চারিদিকে কার্ফু জারি করে দিল,
রাজ্যের হাজার হাজার পোষা পুলিশকে
চেন খুলে ছেড়েদিল এক তোমাকে খুঁজে বার করতে।
এবার তোমার সাথে আমি,
এই সৌম্য ছিল,
সৌম্য তোমার গায়ে আর অসম্মানের আঁচড় লাগতে দেবেনা।
আজ সৌম্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তোমাকে নিয়ে জঙ্গল পেরিয়ে ছুটতে লাগলাম,
সামনের রাস্তা পেরোলেই স্টেশন,
তোমায় দিল্লি পৌঁছতেই হবে।
সামনের রাস্তায় উঠতেই চারিদিক থেকে
পুলিশের বন্দুকগুলো গর্জন করে ওঠে,
আমি তোমাকে ঘিরে ধরে রাস্তার মাটিতে চেপে ধরি,
গুলিতে গুলিতে ঝাঁজরা হতে থাকে আমার পিঠ,
গর্জন থেমে গেলে তোমাকে নিয়ে দৌঁড়ে
রাস্তা পেরিয়ে চলন্ত ট্রেনের পিছনে এক কামরায় উঠতেই,
ট্রেন প্রবল বেগে স্টেশন ছেড়েদিল,
আর কোনো ভয় নেই,
আর ওই মুখ্যমন্ত্রীর পোষা পুলিশেরা
তোমায় ছুঁতে পারবে না,
আর তোমার কোনো অসম্মান হবেনা।
পিঠে গুলিবিদ্ধ আমি
ক্লান্ত হয়ে তোমার কোলে শুয়ে পড়ি,
আবারও অস্ফুট উচ্চারণে বলি "মেয়েমা।"
তোমার চোখ দিয়ে জলের ফোটা আমার মুখে এসে পড়ে,
কি শান্তি সেই ফোটায়!
আর কোনো যন্ত্রনা নেই,
শব্দগুলো আস্তে আস্তে স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে,
তোমার কোলে মাথা রেখে,
একদৃষ্টে তোমার মুখে তাকিয়ে আছি আমি,
আজ আমি মুক্ত ..
No comments:
Post a Comment