নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা বন্ধ হোক।
কিছুদিন ধরে আমার প্রেমের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। কোনো কারণবশত হয়ত মানুষটা আমার কাছে শান্তি পাচ্ছে না। হতে পারে আমার ওপর চরম অভিমান হয়ে আছে তার, হতে পারে আমাকে হয়ত তার বিরক্ত লাগছে, হতে পারে আমি একঘেয়ে হয়ে গেছি তার কাছে। আবার এটাও হতে পারে যে শুধুমাত্র অভিমানবশতই আমার মনের কাছ থেকে অনেকটা দূরে সরে গেছে সে। অভিমান কার না হয়! আমি পুরুষ, আমার অভিমান হতে পারে, আমার একঘেয়েমি চলে আসতে পারে, আমার বিরক্ত লাগতে পারে, আর সে নারী বলে তার অভিমান করা, একঘেয়েমি চলে আসা, বিরক্তি প্রকাশ করা ঠিক নয় এমন মানতে আমি নারাজ। আমার যদি না বলার অধিকার থাকে, আমার যদি অভিমান করার বা বিরক্তি প্রকাশ করার অধিকার থাকে, তবে তারও সেই অধিকার আছে। কারোর ওপর জোর করা আমার খুব একটা পছন্দ নয়। কেউ যদি মন থেকে আমার কাছে আসে, ভালবাসতে চায়, আমি তাকে নিজের মত করে ভালবাসবো, কেউ যদি ভালবাসতে না চায়, আমি তাকে কোনোভাবে জোর করতে পারিনা। এটা ঠিক, আমি মানুষটাকে ভালবাসি, সে দশদিন ভালবাসছে না বলে গোটা এক বছরের তার ভালবাসা আমার কাছে মিথ্যে হয়ে যাবে না। তেমনই আমি তার কাছথেকে জোর করে ভালবাসা আদায় করারও চেষ্টা করবো না কখনো। সে একজন স্বাধীন মানুষ, আমি একজন স্বাধীন মানুষ, আমার নিজের ইচ্ছা প্রকাশের যেমন পূর্ণ অধিকার আছে, তেমনই তারও ইচ্ছা প্রকাশের পূর্ণ অধিকার আছে। আমি তার এই স্বাধীনতাকে সমর্থন করি। সে ছবি আঁকে, সে ছবি তোলে, রাতের অন্ধকারে তিনটে বা চারটের সময় তার একা একাই বাইরে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে আমার আপত্তি করা উচিৎ নয়, আমিও তো আমার কাজে অনেকসময় বাইরে বেরোই, তাহলে সে নিজের কাজে বাইরে গেলে সেখানে আমার হস্তক্ষেপ করা সাজেনা। আর আমি যদি রাতের অন্ধকারে যেকোনো সময় বাইরে নাও বের হই, তবু তার স্বাধীনতাতে হস্তক্ষেপ করা আমার কখনো সাজেনা। এরপরও হয়ত আমি নিষেধ করে ফেলেছি অনেক সময়েই, নিষেধ করার কারণও আছে। যেখানে আমি দেখছি একটা মানুষ দিনের পর দিন না ঘুমিয়ে, চোখের নিচে কালি জমিয়ে, ক্লান্ত হয়ে পড়ছে ও আবারও বাইরে বেরোতে চাইছে, তখন না চাইলেও আমাকে তার স্বাধীনতাতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। তাকে বাধা দিতে হয়েছে। ভালবাসার সম্পর্কে এটুকু জোর আমি খাটিয়েছি আমার আদর্শের বাইরে গিয়ে। এমনই তো হওয়া উচিৎ। নারী, পুরুষ প্রত্যেকেই নিজের নিজের স্বাধীনতাতে বাঁচবে, যা ভালো মনে হবে সেটাই করবে, যা ইচ্ছা সেটা পরবে, যা ইচ্ছা সেটা পড়বে এভাবেই তো মানুষ মানুষ হয়ে বাঁচতে পারবে। পুরুষতান্ত্রিক পুরুষত্ব আমি কখনো চাইনি, পুরুষতন্ত্র ব্যাপারটাও ঠিক নয়। পুরুষতন্ত্র সমাজে পুরুষকে প্রভু বা মালিকের আসনে বসায়, লাটাইয়ের সুতো পুরুষের হাতে থাকে আর নারীকে দাস বানিয়ে রাখে, পুরুষ যেমন ইচ্ছা নারীর সুতো ছাড়ে আবার প্রয়োজনে সুতো টেনে ধরে নারীকে খাঁচায় ভরে। সবটাই শুধু পুরুষের ইচ্ছাতেই সম্পন্ন হয়, নারী সেখানে একটা পরাধীন বস্তু বা দাস ছাড়া আর কিছু নয়। গত পরশু আমার এক প্রাক্তন প্রেমিকা আমাকে ফোন করে অনেককিছু বোঝানোর চেষ্টা করে যে, আমার বর্তমান প্রেমিকার ওপর অধিকার বজায় রাখা উচিৎ, তার ওপর আমার জোর করা উচিৎ, এতটাও উদাসীন হওয়া আমার ঠিক হচ্ছে না। আমি উদাসীন নই আমার প্রেমের সম্পর্কের প্রতি। শুধু আমি মানুষটার ওপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দিতে চাইনা। মানুষটা আমাকে হাজার রকমভাবে ভুল বুঝেই হয়ত আমার থেকে দূরে সরে আছে, কিন্তু আমি কখনো তার ওপর জোর করে আরেকটা ভুল করতে পারিনা। এটাই তো মনুষ্যত্বের ধর্ম হওয়া উচিৎ। সে আমার মতই একজন মানুষ, সে নারী আর আমি পুরুষ বলে সে কখনোই আমার দাস নয়। সে আমার ব্যবহারের বস্তু নয়। আমি যেমন নিজে ভাবি যে আমি নারীর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবো না, তেমনই চাই যে নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হওয়া বন্ধ হোক। সবাই নিজের মত করে, নিজের অধিকারে মানুষ হয়েই বাঁচুক, চলুক, ফিরুক। সেখানেই মানুষের ব্যক্তিত্ব পূর্ণতা পাবে। সেখানেই সমাজ হয়ে উঠবে সুস্থ, সুন্দর।
- সৌম্যজিৎ।
কিছুদিন ধরে আমার প্রেমের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। কোনো কারণবশত হয়ত মানুষটা আমার কাছে শান্তি পাচ্ছে না। হতে পারে আমার ওপর চরম অভিমান হয়ে আছে তার, হতে পারে আমাকে হয়ত তার বিরক্ত লাগছে, হতে পারে আমি একঘেয়ে হয়ে গেছি তার কাছে। আবার এটাও হতে পারে যে শুধুমাত্র অভিমানবশতই আমার মনের কাছ থেকে অনেকটা দূরে সরে গেছে সে। অভিমান কার না হয়! আমি পুরুষ, আমার অভিমান হতে পারে, আমার একঘেয়েমি চলে আসতে পারে, আমার বিরক্ত লাগতে পারে, আর সে নারী বলে তার অভিমান করা, একঘেয়েমি চলে আসা, বিরক্তি প্রকাশ করা ঠিক নয় এমন মানতে আমি নারাজ। আমার যদি না বলার অধিকার থাকে, আমার যদি অভিমান করার বা বিরক্তি প্রকাশ করার অধিকার থাকে, তবে তারও সেই অধিকার আছে। কারোর ওপর জোর করা আমার খুব একটা পছন্দ নয়। কেউ যদি মন থেকে আমার কাছে আসে, ভালবাসতে চায়, আমি তাকে নিজের মত করে ভালবাসবো, কেউ যদি ভালবাসতে না চায়, আমি তাকে কোনোভাবে জোর করতে পারিনা। এটা ঠিক, আমি মানুষটাকে ভালবাসি, সে দশদিন ভালবাসছে না বলে গোটা এক বছরের তার ভালবাসা আমার কাছে মিথ্যে হয়ে যাবে না। তেমনই আমি তার কাছথেকে জোর করে ভালবাসা আদায় করারও চেষ্টা করবো না কখনো। সে একজন স্বাধীন মানুষ, আমি একজন স্বাধীন মানুষ, আমার নিজের ইচ্ছা প্রকাশের যেমন পূর্ণ অধিকার আছে, তেমনই তারও ইচ্ছা প্রকাশের পূর্ণ অধিকার আছে। আমি তার এই স্বাধীনতাকে সমর্থন করি। সে ছবি আঁকে, সে ছবি তোলে, রাতের অন্ধকারে তিনটে বা চারটের সময় তার একা একাই বাইরে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে আমার আপত্তি করা উচিৎ নয়, আমিও তো আমার কাজে অনেকসময় বাইরে বেরোই, তাহলে সে নিজের কাজে বাইরে গেলে সেখানে আমার হস্তক্ষেপ করা সাজেনা। আর আমি যদি রাতের অন্ধকারে যেকোনো সময় বাইরে নাও বের হই, তবু তার স্বাধীনতাতে হস্তক্ষেপ করা আমার কখনো সাজেনা। এরপরও হয়ত আমি নিষেধ করে ফেলেছি অনেক সময়েই, নিষেধ করার কারণও আছে। যেখানে আমি দেখছি একটা মানুষ দিনের পর দিন না ঘুমিয়ে, চোখের নিচে কালি জমিয়ে, ক্লান্ত হয়ে পড়ছে ও আবারও বাইরে বেরোতে চাইছে, তখন না চাইলেও আমাকে তার স্বাধীনতাতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। তাকে বাধা দিতে হয়েছে। ভালবাসার সম্পর্কে এটুকু জোর আমি খাটিয়েছি আমার আদর্শের বাইরে গিয়ে। এমনই তো হওয়া উচিৎ। নারী, পুরুষ প্রত্যেকেই নিজের নিজের স্বাধীনতাতে বাঁচবে, যা ভালো মনে হবে সেটাই করবে, যা ইচ্ছা সেটা পরবে, যা ইচ্ছা সেটা পড়বে এভাবেই তো মানুষ মানুষ হয়ে বাঁচতে পারবে। পুরুষতান্ত্রিক পুরুষত্ব আমি কখনো চাইনি, পুরুষতন্ত্র ব্যাপারটাও ঠিক নয়। পুরুষতন্ত্র সমাজে পুরুষকে প্রভু বা মালিকের আসনে বসায়, লাটাইয়ের সুতো পুরুষের হাতে থাকে আর নারীকে দাস বানিয়ে রাখে, পুরুষ যেমন ইচ্ছা নারীর সুতো ছাড়ে আবার প্রয়োজনে সুতো টেনে ধরে নারীকে খাঁচায় ভরে। সবটাই শুধু পুরুষের ইচ্ছাতেই সম্পন্ন হয়, নারী সেখানে একটা পরাধীন বস্তু বা দাস ছাড়া আর কিছু নয়। গত পরশু আমার এক প্রাক্তন প্রেমিকা আমাকে ফোন করে অনেককিছু বোঝানোর চেষ্টা করে যে, আমার বর্তমান প্রেমিকার ওপর অধিকার বজায় রাখা উচিৎ, তার ওপর আমার জোর করা উচিৎ, এতটাও উদাসীন হওয়া আমার ঠিক হচ্ছে না। আমি উদাসীন নই আমার প্রেমের সম্পর্কের প্রতি। শুধু আমি মানুষটার ওপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দিতে চাইনা। মানুষটা আমাকে হাজার রকমভাবে ভুল বুঝেই হয়ত আমার থেকে দূরে সরে আছে, কিন্তু আমি কখনো তার ওপর জোর করে আরেকটা ভুল করতে পারিনা। এটাই তো মনুষ্যত্বের ধর্ম হওয়া উচিৎ। সে আমার মতই একজন মানুষ, সে নারী আর আমি পুরুষ বলে সে কখনোই আমার দাস নয়। সে আমার ব্যবহারের বস্তু নয়। আমি যেমন নিজে ভাবি যে আমি নারীর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবো না, তেমনই চাই যে নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হওয়া বন্ধ হোক। সবাই নিজের মত করে, নিজের অধিকারে মানুষ হয়েই বাঁচুক, চলুক, ফিরুক। সেখানেই মানুষের ব্যক্তিত্ব পূর্ণতা পাবে। সেখানেই সমাজ হয়ে উঠবে সুস্থ, সুন্দর।
- সৌম্যজিৎ।
No comments:
Post a Comment