"প্রতিটা নারী যদি জরায়ুর প্রতি অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়, পুরুষতন্ত্র ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। "
কিছু মানুষ আমাকে বলে আমি নারীবাদী। আমি নারীবাদী কিনা জানিনা, সেভাবে কখনো ভাবিনি। মানুষকে মানুষের মত দেখেছি, ভালবেসেছি। কখনো নারী - পুরুষ বিভাজনে যাইনি। কখনো ভাবিনি যে আমি একজন পুরুষ হয়ে চরম দুঃসাহসিক একটা কাজ করলাম আর একজন নারী সেটা কখনোই করতে পারবেনা, কারণ সে একজন নারী। নারী বলে তার দৈহিক ও মানসিক শক্তি কম এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। আমি যেমন দুঃসাহসিক একটা কাজ করার ক্ষমতা ও সাহস রাখি, একজন নারী বা সে নারী বা পুরুষ যেমানুষই হোক না কেন, ইচ্ছা করলেই একইরকম বা হয়ত আমার থেকেও অনেক বেশি সাহসের কাজ অনেক ভালভাবে করতে পারে। তাহলে নারী - পুরুষের মধ্যে বিভাজন করে কোনো লাভ নেই। উভয়েই সমান ক্ষমতার অধিকারী। এখন এটা পড়ে অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করতে পারে যে একজন পুরুষ যা করতে পারে, একজন নারী সেটা করতে পারবে কি? একজন পুরুষ ছাড়া একজন নারী কি কখনো সন্তানের মা হতে পারবে? তাদের একটা কথা বলি, সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য কিন্তু এখন একজন নারীর একজন পুরুষের প্রয়োজন হয়না। বিজ্ঞান এতটা এগিয়ে গেছে যে বৈজ্ঞানিকভাবে শুক্রাণু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নারী ইচ্ছা করলেই সন্তান জন্ম দিতে পারে। তাছাড়া সন্তান জন্ম দেবে তার শরীর, তার জরায়ু। তাই সে ঠিক করবে কি উপায়ে সে সন্তান জন্ম দেবে। এখানে পুরুষের প্রয়োজনীয়তাটাও ঠিক করবে একজন নারী। একজন নারী যদি শারীরিক সম্পর্ক করতে না চায়, একজন পুরুষ সেখানে কখনো জোর করতে পারেনা শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে। তাই নারী যদি পুরুষকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য অনুমতি না দেয়, একজন পুরুষ কখনোই কোনো নীতিতে সেই সম্পর্কে উপনীত হতে পারেনা। কারণ শরীরটা নারীর, সেই শরীরে অধিকার আছে শুধু আর শুধুমাত্র তারই।
ঠিক উলটোদিকে একজন পুরুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও একজন নারী জোর করে কোনো নীতিতেই শারীরিক সম্পর্ক গড়তে পারেনা। সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ যতই ভাবুক যে পুরুষই এখানে প্রধান, কারণ পুরুষের পুরুষ লিঙ্গ আছে যা বংশকে আবাদ করবে নারী শরীরকে কর্ষণ করে, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ যতই ভাবুক নারী শুধুমাত্র সন্তান জন্ম দেওয়ার একটা মেশিন, এছাড়া তার মানুষ পরিচয়ের কোনো অস্তিত্ব নেই, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এটা বারেবারে ভুলে যায় যে সন্তান জন্ম দেবে কি দেবেনা সেটা ঠিক করার মালিক শুধুমাত্র একজন নারী। কারণ জরায়ুটার ওপর অধিকার শুধুমাত্র তারই। এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এটা ভুলে যায় যে বিজ্ঞান নারীর সামনে সেই রাস্তা খুলে দিয়েছে যে রাস্তায় নারী কোনো পুরুষ ছাড়াই সন্তান জন্ম দিতে পারে। অতয়েব সেই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ অনেক পিছিয়ে গেছে। এগিয়ে গেছে বিজ্ঞান, এগিয়ে গেছে পুরুষতন্ত্র ব্যতীত বাকি সমাজের চিন্তা। এগিয়ে গেছে নারী।
অতয়েব যদি প্রেম, ভালবাসা, শারীরিক সম্পর্ক, মানসিক সম্পর্ক গড়তেই হয়, তবে নারীকে খেলনা বা বস্তু ভাবা বন্ধ করো পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। নারীও সমান মানুষ। তাকে মানুষ মানো বা না মানো তাতে নারীর কিছু যায় আসুক বা না আসুক, তোমাদের যায় আসবে। ভবিষ্যতে তোমাদের এই সমাজে টিকে থাকতে হলে নারীকে মানুষ ভেবেই, সমান অধিকারী ভেবেই টিকে থাকতে হবে।
এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ যেমন পুরুষের পুংলিঙ্গটার জন্য সমাজে নিজেদের মুখ্য করে তুলেছে, তেমন নারীরও উচিৎ নিজেদের জরায়ুর প্রতি অধিকার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ও সচেতন হওয়া। প্রতিটা নারী যদি জরায়ুর প্রতি অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়, পুরুষতন্ত্র ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।
- সৌম্যজিৎ।
No comments:
Post a Comment