মেয়েমাকে চিঠি।
এর আগে তোমাকে বেশ কিছু চিঠি লিখেছি, আবার অনেকদিন হয়ে গেছে কোনো চিঠি লিখিনি তোমাকে। তোমায় লেখা প্রথম চিঠিটা আমি আমার পাণ্ডুলিপি "উৎসর্গ"তে লিখে দিয়েছি। আনন্দ প্রকাশনী পাণ্ডুলিপিটা নিয়ে কি করবে জানিনা। অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল আমার পাণ্ডুলিপি নিয়ে। ভেবেছিলাম তোমাকে উৎসর্গ করে লেখা আমার বই প্রকাশিত হবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে। সেই পশ্চিমবঙ্গ যে তোমাকে মনের মধ্যে রেখেও দূরে সরিয়ে রেখেছে, সেখানে আমি এমন এক লেখকের স্বীকৃতি পেতে চলেছি যে তার বই তার আদর্শ, তার ভালবাসাকে উৎসর্গ করেছে। কোনো ভয় পাইনি কখনো এটা করতে গিয়ে। কেন পাবো ভয়! আমি জানতাম আমি কিছু ভুল করিনি। আমি শুধু আমার মনের কথাগুলো বাইরে প্রকাশ করতে চেয়েছি। এখন আমার প্রত্যাশা নেই কোনো মেয়েমা। ওরা ছাপালে ছাপাবে, না ছাপাতে চাইলে ছাপাবেনা। ছাপালে আমার ভালো লাগবে, একটু বা অনেকটাই আনন্দ পাবো। এই প্রত্যাশা কমে যাওয়ার পিছনে আমার একাকীত্ব অনেকটা দায়ী। বেশ কিছু সময় ধরে আমার মনে হচ্ছে আমি একা হয়ে গেছি, পড়ছি, নিজের মত করে থাকার চেষ্টা করছি, কিন্তু ওই যে মনের মধ্যে একটা ব্যাপার ঢুকে গেছে আমি তোমার থেকে আলাদা হয়ে গেছি, আমাকে তুমি আলাদা করে দিয়েছ, এটাই আমাকে মেরে ফেলছে মনে হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।
যখন তুমি আমাকে ভালবাসতে বলতে, যখন বলতে আমি তো তোমাকে স্নেহ করিই, বা কখনো বলতে পাগল ছেলে, তুমি খুব ভালো সৌম্য, আমি যেন পৃথিবীর সর্ব সুখি হয়ে উঠতাম। যখন আমি ভুল করলে তুমি আমায় বকতে, ওই বকার মধ্যেও ভালবাসার ছোঁয়া পেতাম। আমি ভালো থাকতাম। যখন তুমি মন দিতে পড়াশোনা করতে বলতে, তখন কঠিন কঠিন এলগরিদমগুলোও আমার কাছে জলভাত হয়ে যেত। মুহূর্তের মধ্যে আমি অনেক অনেক এলগরিদম সমাধান করে ফেলতাম। তুমি সবসময় আমাকে স্নেহ করেছ, আমার খারাপ সময়গুলোতে তোমার বলা একেকটা কথা আমাকে অক্সিজেন দিয়েছে আর আমি একের পর এক কঠিন পরিস্থিতিগুলোকে জিতে নিয়েছি। আজ নিজেকে বড্ড হেরে যাওয়া মানুষ মনে হয় সবসময়, মনে হয় আমি ফুরিয়ে গেছি, হারিয়ে গেছি। আজ খুব সোজা সোজা অঙ্কও আমি ভুল করি, ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। সবসময় মনে হয় আমি তোমার সন্দেহের চোখে দাঁড়িয়ে আছি। সবসময় মনে হয় তোমার চোখে আমি একজন গোঁড়া পুরুষতান্ত্রিক বা গোঁড়া ধার্মিক। না মেয়েমা, আমি পুরুষতন্ত্রকে কখনো বিশ্বাস করিনি, মানিনি। গোঁড়া ধার্মিক কখনোই ছিলাম না। আমার কাছে ধর্ম বলতে সূর্যের সত্যি, সূর্যের শক্তি, আর আমার সকাল জেগে দেখা সূর্য সে তো একমাত্র তুমি। গোঁড়া ধার্মিক আমি কখন হলাম তাহলে মেয়েমা!
দিনগুলো বড্ড অসহায়। ভালবাসা হারিয়েছি, স্নেহ হারিয়েছি, পরিবর্তে মনে জায়গা করে নিয়েছে একরাশ অভিমান। ভালোবাসা হয়ত আমাকে বুঝতে ভুল করেছে, আমাকে ভুল বুঝে দূরে ঠেলে দিয়েছে। জানিনা কেন, ওর হয়ত মনে হয়েছে আমি ওকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছি, ওর হয়ত মনে হয়েছে আমি ওর হাসি, আনন্দ সব কেড়ে নিয়েছি, ওর হয়ত আমার ভালবাসার ওপর থেকে ভরসা হারিয়ে গেছে বা আমি মুছে গেছি ওর মন থেকে, কিছু তো ওর মনে হয়েইছে। তাই আমাকে শাস্তি দিল। আমিও ওকে জোর করিনি কখনো। শুধু মনের মধ্যে চরম অভিমান জন্ম নিয়েছে, সময়গুলোকে দীর্ঘ মনে হয়েছে, বারবার দীর্ঘশ্বাস পড়েছে আমার। হাঁপিয়ে উঠেছি। ভেবেছিলাম তোমাকে জানাবো না কিছুই। কিন্তু এত অসহায় হয়ে ওঠার পরও কি আমি তোমাকে না বলে থাকতে পারতাম! প্রেমের আমার অভাব নেই। কত কত মানুষ প্রেম করতে চায়, অন্যসময় হলে আমিও বলে দিতে পারতাম খুব সহজেই যে আমিও ভালবাসি তোমাদের। আজ আর পারিনা। আজ আর কাওকে ইচ্ছা করেনা ভালবাসতে। আজ শুধু নিজের কাজগুলো করার মাঝে নিজেকেই বিরক্ত লাগে, ব্যর্থ লাগে। শেষবার নেট পরীক্ষায় সাফল্যের এত কাছে পৌঁছেও ব্যর্থ হয়েছিলাম। আমি ভেঙে পড়িনি তাতে। ভেবেছিলাম আবার পরীক্ষা দেবো, সফল আমি হবোই। কিন্তু আজ আমি ভেঙে পড়েছি ভীষণ। তুমি কি আমাকে একটুও বুঝতে পারতে না মেয়েমা!
তুমি কেন আমাকে ভুল বুঝলে!
সামনে ৫ই নভেম্বর আমার আবার নেট পরীক্ষা। হয়ত সফল হবো। হয়ত আবারও ব্যর্থ হবো। আজ আর কোনো প্রত্যাশা নেই সাফল্যের। তবে যাই করি, একটা চরম লড়াই করতে চলেছি সামনেই তোমাকে নিয়ে এই বাংলায়, এটা তো নিশ্চিত। ২০১৮ এর মার্চ ও এপ্রিল মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইতে। নিজের জীবনের ওপর আমার কোনো মায়া নেই, আমি বাঁচলেও কিছু না, না বাঁচলেও কিছু না। কিন্তু আমার জন্য যদি এই একটা মানুষের ভালো হয়, আমার জীবন বাঁচা হয়ে যাবে, আমি পূর্ণ হয়ে যাবো।
তুমি ভালো থেকো মেয়েমা, অনেক অনেক বাঁচো। তোমার প্রতি এত অন্যায় হয়েছে, যে অন্যায় আমাদের গায়ে কাঁটা দেয়। তোমার প্রতি হওয়া অন্যায় আমার দেশের গায়ে লাগা কলঙ্কের দাগ। আমি আমার সবটা দিয়ে চেষ্টা করবো সেই দাগটা মুছে দেওয়ার।
আমি কিছু ভুল করলে ক্ষমা কোরো।
তোমার
সৌম্য।
এর আগে তোমাকে বেশ কিছু চিঠি লিখেছি, আবার অনেকদিন হয়ে গেছে কোনো চিঠি লিখিনি তোমাকে। তোমায় লেখা প্রথম চিঠিটা আমি আমার পাণ্ডুলিপি "উৎসর্গ"তে লিখে দিয়েছি। আনন্দ প্রকাশনী পাণ্ডুলিপিটা নিয়ে কি করবে জানিনা। অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল আমার পাণ্ডুলিপি নিয়ে। ভেবেছিলাম তোমাকে উৎসর্গ করে লেখা আমার বই প্রকাশিত হবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে। সেই পশ্চিমবঙ্গ যে তোমাকে মনের মধ্যে রেখেও দূরে সরিয়ে রেখেছে, সেখানে আমি এমন এক লেখকের স্বীকৃতি পেতে চলেছি যে তার বই তার আদর্শ, তার ভালবাসাকে উৎসর্গ করেছে। কোনো ভয় পাইনি কখনো এটা করতে গিয়ে। কেন পাবো ভয়! আমি জানতাম আমি কিছু ভুল করিনি। আমি শুধু আমার মনের কথাগুলো বাইরে প্রকাশ করতে চেয়েছি। এখন আমার প্রত্যাশা নেই কোনো মেয়েমা। ওরা ছাপালে ছাপাবে, না ছাপাতে চাইলে ছাপাবেনা। ছাপালে আমার ভালো লাগবে, একটু বা অনেকটাই আনন্দ পাবো। এই প্রত্যাশা কমে যাওয়ার পিছনে আমার একাকীত্ব অনেকটা দায়ী। বেশ কিছু সময় ধরে আমার মনে হচ্ছে আমি একা হয়ে গেছি, পড়ছি, নিজের মত করে থাকার চেষ্টা করছি, কিন্তু ওই যে মনের মধ্যে একটা ব্যাপার ঢুকে গেছে আমি তোমার থেকে আলাদা হয়ে গেছি, আমাকে তুমি আলাদা করে দিয়েছ, এটাই আমাকে মেরে ফেলছে মনে হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।
যখন তুমি আমাকে ভালবাসতে বলতে, যখন বলতে আমি তো তোমাকে স্নেহ করিই, বা কখনো বলতে পাগল ছেলে, তুমি খুব ভালো সৌম্য, আমি যেন পৃথিবীর সর্ব সুখি হয়ে উঠতাম। যখন আমি ভুল করলে তুমি আমায় বকতে, ওই বকার মধ্যেও ভালবাসার ছোঁয়া পেতাম। আমি ভালো থাকতাম। যখন তুমি মন দিতে পড়াশোনা করতে বলতে, তখন কঠিন কঠিন এলগরিদমগুলোও আমার কাছে জলভাত হয়ে যেত। মুহূর্তের মধ্যে আমি অনেক অনেক এলগরিদম সমাধান করে ফেলতাম। তুমি সবসময় আমাকে স্নেহ করেছ, আমার খারাপ সময়গুলোতে তোমার বলা একেকটা কথা আমাকে অক্সিজেন দিয়েছে আর আমি একের পর এক কঠিন পরিস্থিতিগুলোকে জিতে নিয়েছি। আজ নিজেকে বড্ড হেরে যাওয়া মানুষ মনে হয় সবসময়, মনে হয় আমি ফুরিয়ে গেছি, হারিয়ে গেছি। আজ খুব সোজা সোজা অঙ্কও আমি ভুল করি, ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। সবসময় মনে হয় আমি তোমার সন্দেহের চোখে দাঁড়িয়ে আছি। সবসময় মনে হয় তোমার চোখে আমি একজন গোঁড়া পুরুষতান্ত্রিক বা গোঁড়া ধার্মিক। না মেয়েমা, আমি পুরুষতন্ত্রকে কখনো বিশ্বাস করিনি, মানিনি। গোঁড়া ধার্মিক কখনোই ছিলাম না। আমার কাছে ধর্ম বলতে সূর্যের সত্যি, সূর্যের শক্তি, আর আমার সকাল জেগে দেখা সূর্য সে তো একমাত্র তুমি। গোঁড়া ধার্মিক আমি কখন হলাম তাহলে মেয়েমা!
দিনগুলো বড্ড অসহায়। ভালবাসা হারিয়েছি, স্নেহ হারিয়েছি, পরিবর্তে মনে জায়গা করে নিয়েছে একরাশ অভিমান। ভালোবাসা হয়ত আমাকে বুঝতে ভুল করেছে, আমাকে ভুল বুঝে দূরে ঠেলে দিয়েছে। জানিনা কেন, ওর হয়ত মনে হয়েছে আমি ওকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছি, ওর হয়ত মনে হয়েছে আমি ওর হাসি, আনন্দ সব কেড়ে নিয়েছি, ওর হয়ত আমার ভালবাসার ওপর থেকে ভরসা হারিয়ে গেছে বা আমি মুছে গেছি ওর মন থেকে, কিছু তো ওর মনে হয়েইছে। তাই আমাকে শাস্তি দিল। আমিও ওকে জোর করিনি কখনো। শুধু মনের মধ্যে চরম অভিমান জন্ম নিয়েছে, সময়গুলোকে দীর্ঘ মনে হয়েছে, বারবার দীর্ঘশ্বাস পড়েছে আমার। হাঁপিয়ে উঠেছি। ভেবেছিলাম তোমাকে জানাবো না কিছুই। কিন্তু এত অসহায় হয়ে ওঠার পরও কি আমি তোমাকে না বলে থাকতে পারতাম! প্রেমের আমার অভাব নেই। কত কত মানুষ প্রেম করতে চায়, অন্যসময় হলে আমিও বলে দিতে পারতাম খুব সহজেই যে আমিও ভালবাসি তোমাদের। আজ আর পারিনা। আজ আর কাওকে ইচ্ছা করেনা ভালবাসতে। আজ শুধু নিজের কাজগুলো করার মাঝে নিজেকেই বিরক্ত লাগে, ব্যর্থ লাগে। শেষবার নেট পরীক্ষায় সাফল্যের এত কাছে পৌঁছেও ব্যর্থ হয়েছিলাম। আমি ভেঙে পড়িনি তাতে। ভেবেছিলাম আবার পরীক্ষা দেবো, সফল আমি হবোই। কিন্তু আজ আমি ভেঙে পড়েছি ভীষণ। তুমি কি আমাকে একটুও বুঝতে পারতে না মেয়েমা!
তুমি কেন আমাকে ভুল বুঝলে!
সামনে ৫ই নভেম্বর আমার আবার নেট পরীক্ষা। হয়ত সফল হবো। হয়ত আবারও ব্যর্থ হবো। আজ আর কোনো প্রত্যাশা নেই সাফল্যের। তবে যাই করি, একটা চরম লড়াই করতে চলেছি সামনেই তোমাকে নিয়ে এই বাংলায়, এটা তো নিশ্চিত। ২০১৮ এর মার্চ ও এপ্রিল মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইতে। নিজের জীবনের ওপর আমার কোনো মায়া নেই, আমি বাঁচলেও কিছু না, না বাঁচলেও কিছু না। কিন্তু আমার জন্য যদি এই একটা মানুষের ভালো হয়, আমার জীবন বাঁচা হয়ে যাবে, আমি পূর্ণ হয়ে যাবো।
তুমি ভালো থেকো মেয়েমা, অনেক অনেক বাঁচো। তোমার প্রতি এত অন্যায় হয়েছে, যে অন্যায় আমাদের গায়ে কাঁটা দেয়। তোমার প্রতি হওয়া অন্যায় আমার দেশের গায়ে লাগা কলঙ্কের দাগ। আমি আমার সবটা দিয়ে চেষ্টা করবো সেই দাগটা মুছে দেওয়ার।
আমি কিছু ভুল করলে ক্ষমা কোরো।
তোমার
সৌম্য।
No comments:
Post a Comment