দাউ দাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে শুকিয়ে যাওয়া মৃত ঘাসের ওপর দিয়ে,
চারিদিকে যেদিকে চোখ যায় দেখি বাঁজার জমি খাঁ খাঁ করছে,
পোড়া ভ্যাঁপসা গন্ধটা নাকে এসে ঠেকছে,
ঠিক যেন বিষে বিষে ভেসে গেছে বাতাস।
আর কিছুক্ষণেই আমার প্রশ্বাসে অক্সিজেন শেষ হয়ে যাবে,
ঘনঘন হাঁপানি উঠছে নাভিশ্বাস ঠেলে,
এই বাঁজার জমিতে শুধু আমি একা, পায়ের তলার মাটি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে,
গরম বাতাস, গরম নিঃশ্বাস, যেখানে হাত দিই শুধুই আগুনে ঝলসানো স্পর্শ,
আমি প্রাণ চাই, আমি প্রাণ চাই।
আমার উদার প্রকৃতি মা
ভাসিয়ে দাও মেঘ গর্জন করে শীতল বৃষ্টিতে,
এখুনি এই বাঁজার জমিকে ভিজিয়ে আবাদ করে দাও,
এখুনি এই তীব্র লালবর্ণে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিভিয়ে জন্ম দাও সবুজ তৃণ,
এখুনি নতুন করে অক্সিজেনে ভরিয়ে দাও বাতাস।
তোমার বিরূপ প্রকোপ দেখাতে কেন জন্ম দিলে এই দহনও ধরণীতে!
মনুষ্যত্বে ভরা প্রাণ নিয়ে আমার আবির্ভাব হল,
কেন আমায় মৃত্যুপুরীতে দাহ্য বস্তু বানালে!
শুধুই কি তোমার আগুন ছড়িয়ে দিতে ওই কার্বনডাইঅক্সাইডের মতই
আমিও কার্বনে কোনো বস্তু!
বস্তুই যদি হই তবে কেন প্রাণ দিলে,
কেন প্রেম দিলে, কেন মনুষ্যত্ব দিলে,
কেন ইচ্ছা দিলে এই চামড়ার আবরণে ঠেসে?
- সৌম্যজিৎ।
No comments:
Post a Comment