এত লেখক, লেখিকা থাকতে আমি কেন তসলিমা নাসরিনকে পড়ি?
১) তসলিমা নাসরিনের লেখা বাস্তব জীবন নিয়ে, বাস্তব চরিত্র নিয়ে। বাস্তব উদাহরণগুলো নিয়ে।
২) স্পষ্টবাদী। আগে, পরে কি হয়েছে, কি হবে এসব চিন্তা না করেই যা সত্য, যা স্পষ্ট লেখিকা তাই বলেন, তাই লেখেন।
৩) অকপট স্বীকারোক্তি। নিজের জীবনের ঠিক, ভুল সবকিছু অকপটে তুলে ধরার ক্ষমতা। অনেক লেখক, লেখিকাদের মতন লজ্জাকে লুকিয়ে রেখে উনি কখনো নিজের ভালো কিছুগুলোর ঢাক পিটিয়ে বেড়াননি।
৪) নিজের রুদ্ধশ্বাস জীবনে পদে পদে মৃত্যুর তাড়া খেয়ে বেরিয়েও উনি নিজের সততা, আদর্শের সাথে কখনো সমঝোতা করেননি।
৫) দুমাসের অন্তর্ধান মুহূর্তেও উনি যে হিজাব, বোরখার বিরুদ্ধে বারবার কথা বলেছেন, সেইসব হিজাব - বোরখার সাহায্য নিয়ে লুকিয়ে পালাতে চাননি। আদর্শের প্রতি একনিষ্ঠ না হলে কেউ এতটাও মরিয়া হতে পারেনা শুধুমাত্র সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে।
৬) কোর্ট চত্বরে যাওয়ার মুহূর্তেও যখন তিনি ভাবছেন যে নিশ্চিত মৃত্যু মুখে এগোচ্ছেন, তখনও ভেবে চলেছেন "আজ হয়ত আমি প্রাণে মরবো। কিন্তু আমার মৃত্যু হাজারও তরুণের বুকে আদর্শ সঞ্চারিত করবে। একসময় সবাই প্রতিবাদমুখর হবে। সত্য প্রতিষ্ঠিত হবেই।" কার পক্ষে এমন ভাবা সম্ভব? নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে কি একটা পুরুষও এতটা মরিয়া হতে পারত!
৭) তসলিমা নাসরিনের শিরাতে, মজ্জাতে, রক্তে, মাংসে শুধুই প্রেম, ভালবাসা, উদারতা। এই প্রেম আমার মনে অমরত্ব পেয়েছে।
৮) চরম ধৈর্য। মানসিক, শারীরিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছেন, এত বই নিসিদ্ধ হয়েছে, একটা গোটা দেশ ও একটা গোটা রাজ্য থেকে নির্বাসিত হয়েছেন, আরও অনেক রাজ্য থেকে অলিখিতভাবে নির্বাসিত হওয়ার পরও নিজের জায়গা থেকে, আদর্শ থেকে এক ইঞ্চি সরে দাঁড়াননি। অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। বরং আরও শক্ত হাতে কলম ধরেছেন।
৯) ডাক্তারির সুখের চাকরি আর কলম এই দুটো বিকল্প যখন তাঁর সামনে এসে উপস্থিত হয়, উনি চাকরি ছেড়ে কলমকে তুলে নেন। কলমকে কখনো বিক্রি করে দেননি।
এমন এক জীবন্ত যোদ্ধা যিনি গত দুই যুগ ধরে রুদ্ধশ্বাস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, সমস্ত ইসলামিক দেশগুলির নিশানায় থেকেও কখনো আদর্শের পথ ছাড়তে রাজি নন, তাঁর লেখা না পড়ে আমি আর কার লেখা পড়বো? আমি মানুষ হতে চাই। আমি আদর্শের সাথে বাঁচতে চাই। তসলিমা নাসরিনই সেই রাস্তা যা আমাকে আদর্শের আলো দেখাবে।
No comments:
Post a Comment