Wednesday, 24 August 2016


তসলিমা নাসরিন-(জন্ম-২৫ শে আগস্ট।)

শুভ জন্মদিন মেয়েমা। সুস্থ সুন্দর বেঁচে থাকো সকল হৃদয়ে।

(কৃতজ্ঞতা – আহমদ শরীফ, কলিম শরাফী, খান সারওয়ার মুরশিদ, কবীর চৌধুরী, শামসুর রাহমান, কে এম সোবহান, ডঃ কামাল হোসেন, হামিদা হোসেন, রোকেয়া কবীর, সুলতানা জামান, রুবী রহমান, শামীম সিকদার, সারা হোসেন, শহিদুল আলম, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী।)

বিন্দু বিন্দু যন্ত্রনা মিলে, কোটি কোটি আবেগ মিলে -
সততা, আদর্শ মিলে তৈরি হয় প্রতিবাদের ভাষা -
আর বুক ভর্তি ভালোবাসা নিয়ে শত বর্ষে তৈরি হয়
এক ও অদ্বিতীয় তসলিমা নাসরিন।

যুগের হাওয়ার বিপরীতে কুরুক্ষেত্র ন্যায় বিশালাকার রণক্ষেত্রে -
কলমাস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে দেবব্রত ভীষ্ম সম তসলিমা নাসরিন।
তসলিমা নাসরিন তুমি যতদিন দাঁড়িয়ে আছো এই ধরণী বুকে,
আদর্শ বেঁচে থাকবে আমাদের জ্বলন্ত হৃদয়ে অগ্নিউৎস হয়ে,
পথে পথে যত থাকুক বাধা, যত আসুক বিঘ্ন, সততার রাস্তায় আমরা থাকব অবিচল,
আদর্শের অগ্নিউৎসকে প্রেরণা করে।


উতল হাওয়া, ফুলশয্যা থেকে।

একটু ঘুম চাই,
আমি ভুলতে চাই,
আমি ভুলতে চাই সব পার করে আসা সময়।
ক্লান্ত সব সময়গুলো, ক্লান্তি আসে চেতনা ঘিরে,
রক্তচোখে মৃত্যুবিষ ঢেলে দিতে এগিয়ে আসে,
আমার ঘুম নাই।

দিনে রাতে ক্লান্ত ঘুমে,
চোখে শুধুই কালো ছায়া,
ভালোবাসার কোনো মানুষ নাই,
আমি ভুলতে চাই।

বুক কেঁপে ওঠে হন হন করে,
স্নায়ুস্পন্দন ঢিপ ঢিপ করে বেড়ে ওঠে,
স্তব্ধ ঘরে একাকী আমি শুনি আমারই ভিতর থেকে-
উঠে আসা সেই শব্দ।
ঘড়ির কাঁটা ধিকে ধিকে চলে,
খছ খছ আওয়াজটাও স্নায়ুস্পন্দনের সাথে জোয়ার তোলে,
সমুদ্র ঢেউ ওঠে প্রাণের অতল গভীরে,
একটু ঘুম চাই।

বিশ্বাসী মানুষটা আজ অবিশ্বাসী!
অবিশ্বাসী তুমি! একটা বারও যদি এসে বলো,
"তোমার বিশ্বাসের পরীক্ষা নিচ্ছিলাম সকাল। যা বলেছি সব মিথ্যে।"
আমি শুনতে চাই,
বারবার শুনতে চাই, আমি মিথ্যে হতে চাই।
একবার, শুধু একটাবারই বলো- "সব মিথ্যে।"
আমি দালানে রাতের অন্ধকারে দুহাত ভাসিয়ে,
বন্ধ চোখে আকাশের পানে মুক্তির ঘ্রান নেবো।
আমি চাই আমি যেন মিথ্যে হই।

শরীর জুরে আজ যন্ত্রণা।
যেভাবে আমাকে ছুঁয়েছ, যেভাবে ভালোবেসেছে আমাকে,
একইভাবে আরও অনেককেই ছুঁয়েছে!
নিখাদ ভালোবাসা শুধু আমিই বেসেছি।
এত বছরের প্রতীক্ষা, আমি আমার শরীর- মন যা চেয়েছিলে,
সবটাই দিয়েছি ভালোবেসে।
সেই ভালোবাসার উপহারে পেলাম অসচ্চরিত্রতা!
ছোট ছোট স্বপ্নজুরে -
আমি চেয়েছিলাম ভরাট একটা সংসার গাঁথবো,
আজ সেই সংসারের মালাতে শুধুই একটা রোগ -
আমার মনের ভিতর সব উথাল পাথাল করে দিয়ে যাচ্ছে,
লজ্জাই, ঘেন্নাই গা ঠেলে বমি আসছে,
আমার কোনো পথ নাই।

ঘুমের বড়িগুলো সামনে বিদ্রুপ চোখে হাসছে,
সবগুলো একসাথে খেলে বুঝি আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারি,
আমার একটু ঘুম চাই।
একটু মুক্তি চাই।


প্রতিবাদের লড়াই –

সেইসব অন্ধকারের কালো ছায়া।

আহত এক বেলা, ক্লান্ত সকাল,
প্রাণে হুহু করা নিঃশ্বাস।
কি করি? কি করবো? কোথায় যাবো?
ওরা কি বাইরেই দাঁড়িয়ে?
ওরা কি সামনের অ্যাপার্টমেন্টে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করে আছে বন্দুকের নল এগিয়ে?
হয়ত তাই।
পর্দার ওপার থেকে ওরা তাক করে আছে,
নিশানা লাগলেই একটা বুলেট,
মাথার খুলি উড়িয়ে ছিটকে গিয়ে পড়বে দেওয়ালের গায়ে,
লাল রক্তে ভেসে যাবে ঘরের মেঝে, আর সব শেষ।

বাইরেই ওৎ পেতে আছে চাপাতিধারীর দল,
ওদের একটাই লক্ষ্য এই শরীরটাকে ছিন্নভিন্ন করে লাল রক্তে স্নান করে-
আল্লাহর দরবারে বেহেস্তের পথ পরিষ্কার করবে।
ওরা গোটা দুনিয়া জুরে ওদের পুরুষত্ব কায়েম করবে,
নারীকে চিরকাল ভোগের বস্তু বানিয়ে রাখবে, আর
যে মাথা উঁচিয়ে উঠবে প্রতিবাদের সুর নিয়ে তাকে
টুকরো টুকরো করে কেটে উচিৎ শিক্ষা দেওয়া হবে।
ওরা কেউ সুস্থ সমাজ চাইনা, চাইনা ওরা শিক্ষিত মানব সমাজ,
চাইনা ওরা সভ্যতা আর চাইনা সমাজের অগ্রগতি,
ওরা চায় পুরোনো অসভ্যতাকে ধরে রাখতে,
ওরা চায় নারীকে আপাদ মস্তক ঢেকে ঘরে তালাবন্ধ করতে,
ওরা চায় শরিয়াতি নিয়ম কায়েম করতে,
ওরা চায় শুধু কল্লা, শুধু রক্ত যে রক্তে ওরা শহরের, গ্রামের সড়ক পিচ্ছিল করতে পারে।
ওরা মূর্খের সম্মোহন নিয়ে,
কালোবাজারি ব্যবসা নিয়ে,
ধর্মের নামে মানুষকে বোকা বানিয়ে গোটা দেশকে কবচা করতে চায়।
ওরা মানুষ হতে পারেনি কখনো,
মানুষের শিক্ষা ওরা পাইনি,
ওরা হয়েছে মানুষরূপী দানব,
ওদের গায়ে আমি আলকাতরার মত অন্ধকার দেখি।

ওরা তসলিমা কে মারতে চায় যাতে -
ওদের ঘরের নারীরা কখনো মাথা তুলে কথা না বলতে পারে,
ওরা আজ আমাকে ধর্ষণ করে ব্রম্মপুত্রে ভাসাতে চায় যাতে -
সমাজে আতঙ্ক ছড়াতে পারে।
ওরা কখনই মানুষ হয়ে উঠবে না,
ওরা কখনই দেশকে গর্বের স্থান নিতে দেবেনা,
ওরা দেশকেই গোটা পৃথিবীর সামনে ভরা বাজারে কলঙ্কিত করতে চায়।
ধিক এই সমাজতন্ত্রকে,
ধিক এই পুরুষতন্ত্রকে,
এই সমাজ আমার লজ্জার,
এই সমাজ নিজের দামন খুলে ভরা বাজারে নিজেই নিলামে চড়তে চায়,
কেউ প্রতিবাদের সুর ওঠালেই তাকে নষ্ট আখ্যান দেয়।


সেইসব অন্ধকার থেকে –
আঁধারে আলো।

মুহূর্তে নিঃশ্বাস পড়ে ঘন ঘন,
বইছে সময়, ঘুরছে কাঁটা বড় দ্রুত,
বুক দুরুদুরু কম্পনে সারা শরীরে শিহরন,
চিন্তাজুরে শুধু সময়কে অনুরোধের সুর আরেকটু পিছিয়ে চলো তোমরা -
আমি বাঁচতে চাই।
আমি বাঁচতে চাই প্রাণ খুলে ব্রম্মপুত্র তীরে,
আমি বাঁচতে চাই আমার মায়ের আঁচল বিছান কোলে,
আমি বাঁচতে চাই।
ক্লান্ত মনের ক্লান্তিতে আমি ঘুমাইনি কত রাত!!
শরীর জুরে অচলতা আমি চলছি শুধু চলতেই,
নাই খিদে, নাই ঘুম, নাই হাজারও সে স্বপ্ন,
সব আজ ওই একটু বাঁচতে চাওয়াতেই ফুরিয়ে গেছে ।
দ্রুত বয়ে যাচ্ছে ঘড়ির কাঁটা আমার নাই সাধ্য তাকে থামানোর।
কি দোষ ছিল আমার?
হাজারও নারীর প্রতি হওয়া, হয়ে যাওয়া, করে যাওয়া অত্যাচার-অন্যায়তে
আমি চেয়েছিলাম নারী জাগরন।
আমি চেয়েছিলাম নারী হোক নিজের স্পর্ধায় চলা সেই পথিক যে -
নিজেই নিজের অবলম্বন,
আমি চেয়েছিলাম নারী যেন দাস হয়ে না থাকে,
আমি চেয়েছিলাম নারী যেন সূর্যদিকে বা অন্ধকারে চলে দ্বিধাহীন,
নারী চেতনা!! - নারীর বিস্ময় না হয়ে বাস্তব হোক,
প্রার্থনা নয় চেয়েছিলাম অধিকার ছিনিয়ে নিতে।
প্রতিবাদ মুখর হয়েছিলাম লেখা দিয়ে,
লড়তে চেয়েছিলাম শরিয়তির নিয়ম পাল্টাতে,
আমি লড়েছিলাম একটা সমাজের মত সমাজ গড়তে,
ওরা উস্কে দিল সেই সমাজকেই আমার পিছনে।

ওরা আমাকে ঘর ছাড়া করে দিল,
আমিই যে আমি প্রাণ চঞ্চল ছোটাছুটি করে বেড়াতাম,
আমিই আজ ঘরছাড়া উস্কখুস্ক চুলে, দিনের পর দিন নাই স্নান,
খাওয়া জোটে - জোটেনা, শুধু পথ চেয়ে থাকি একটু মুক্তির আশায়।
একটু ভরসা, কেউ এসে বলবে, কেউ বলুক, "তসলিমা, -
তুমি মুক্ত। ছুটে যাও ওই বাজার খোলা রাস্তা দিয়ে, দৌঁড়ে ডিঙিয়ে পার করো -
এক এক ধাপ। জড়িয়ে ধরো মার গলা, বাবার বুকে আশ্রয় নাও,
দাদা'দের জড়িয়ে ধরো, চিৎকার করে কাঁদো বোনকে চেপে ধরে,
পরমা, ভালোবাসাকে বুকের মধ্যে নিয়ে প্রাণ ভরে শ্বাস নাও তসলিমা।
আজ যে তুমি মুক্ত!"
দিন যায়, রাত যায়, আমাকে শুধু নিরাপদ আশ্রয়ে আশ্রয় খুঁজে -
দান গ্রহন করে, পরনির্ভর হয়েই বাঁচতে হয়।
তসলিমা- যে আমিই নারীমুক্তি ঘটাতে চেয়েছি,
স্বনির্ভরতার বিশ্বাস জোগাতে চেয়েছি,
আমিই সেই তসলিমা আজ দিন কাটাচ্ছি পরনির্ভরে, প্রাণ বাঁচাতে।
ওরা কেন আমাকে নির্ভরতা দেবে?
ওরা তো আমার কখনো কেউ ছিলনা।
ওরা শুধু কেউ কেউ আমার কোথাও পরিচিত মাত্র।
আত্মীয়-বন্ধু যা ছিল সবাই তো সরে গেছে,
ওরা সরেনি। কখনো কেউ না হয়েও ওরাই আজ আমার সব,
আমার রক্ষা কর্তা।
আমার বিপদ যেন ওদেরই বিপদ,
ওরা যেন নিজেদের বাঁচাতেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রাণপণে।
লক্ষাধিক মৌলবাদের সশস্ত্র আন্দোলনকে পাত্তা না দিয়েই ওরা লড়ছে।
দিনের আলোতে, রাতের অন্ধকারে সন্তর্পণে আমাকে রক্ষার লড়াই লড়ছে।

একটু মুক্তির আশা,
জামিন মুক্ত হওয়ার আশা -
দরজাতে কড়া নাড়তেই আমি যেন অন্ধকার থেকে জেগে উঠি,
মুহূর্তেই আমাকে থামিয়ে দিতে চাই সেই মুক্তি আবার অন্ধকারে।
শর্তাধীন জামিন!
আমাকে আমারই দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে!
এই দেশ আমার,
এই দেশকে ঘিরেই আমি নারী চেতনা জাগাতে চেয়েছি,
এই দেশেই আমি বড় হয়েছি, পরিচয় পেয়েছি,
এই দেশেরই মাটির গন্ধ আমার শিরায় শিরায় বইছে,
এই দেশেরই নাম আমার রক্তস্রোতে বইছে,
এই দেশকেই কিনা ছেড়ে যেতে হবে!
কেন? কি অপরাধ করেছি আমি?
কেন এই শাস্তি!

আদালতে উপস্থিতিতেই আমাকে জামিন মুক্ত হতে হবে,
বুকের মধ্যে টিপটিপ, ঢিপঢিপ।
মৃত্যু শুধু ওৎ পেতে বসে আছে, আমার পানে চেয়ে হাসছে,
জিজ্ঞাসা করছে, "কোথায় মরবি?"
আমি জানি আমার মৃত্যু হবেই।
সাদা টুপিওয়ালারা রাস্তা ঘিরে আছে, হাজারও, লাখো।
ওরা আমাকে বাঁচতে দেবেনা।
তবু যদি একটা সুযোগ পাই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে!

মাথা, চুল ঢাকা -
আমার কাছে যেন মাথা শরীর থেকে নেমে পড়ার সমান,
আমি পুরো ঢাকা।
আদালত চত্বর লাখে লাখে সাদা টুপিওয়ালারা ঘিরে রেখেছে,
চিল-শকুনের মতো তসলিমাকে ছিঁড়ে খাবে।
আমি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো,
একটুও নড়বো না।
ওরা আমার শরীর ক্ষত, বিক্ষত করে শেষ করে ফেলুক,
ওরা আমার বিশ্বাসকে মারতে পারবে না।
এই বিশ্বাসেই মানুষ জেগে উঠবে,
আমি আজ হেরে যাবো,
হেরে গিয়েও আমিই জিতবো।
জিতবে আমার আদর্শ।


অগ্নি উৎস তুমি তসলিমা নাসরিন।

তোমার আপসহীন আগুন কত মানুষ দেখেছে !!
পদে পদে তোমার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকার, মৌলবী, ধর্মান্ধ ভক্ত।
যখন লড়েছ, ভয় তোমারও হয়েছে।
তুমি ভেবেছো, "এই বুঝি কেউ এসে আমার মুন্ডপাত করে।"
ভয় সবাই পায়। সেই ভয়তেও তুমি আপসহীন।
যত দেখি, ততই মুগ্ধ হয়ে যাই।
শরীরের প্রতিটা লোম খাড়া হয়ে যায় যখন
তোমাকে বাংলা নির্বাসনের সময়গুলোতে অনুভব করি।
রক্তের মধ্যে গরম স্রোত বয়ে যায়।


অগ্নি কন্যাকে নতুন কি আর ভাষা দেবো?
যে নিজে জ্বলন্ত আগুন তাকে
ভাষার আগুনে উজ্বল করার ভাষা কম হয়ে যাবে।


যখন গোটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল, মৌলবী, রাষ্ট্রীয় মানুষ
মূর্খামি করে তোমার রক্তের স্বাদ পেতে চেয়েছে,
তুমি তখন সদ্য যৌবনের একজন মানবিক লেখক, ধর্ম বিদ্রুপাত্মক।
সাহস করে সত্যিটা তুলে ধরেছিলে,
কিন্তু এত মনের জোর তোমার ছিলনা।
ছিলনা, কারণ পরিবারের টান, প্রানের ভয়।
সংসার, ভবিষ্যত তুমিও চেয়েছিলে।


আস্তে আস্তে সমাজের ভয়ঙ্কর রূপটা সবে প্রকট হচ্ছে,
রাতের অন্ধকারে তোমাকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
কেউ আশ্রয় দিতেও ভয় পাচ্ছে।
অন্ধকূপের মধ্যেও জীবন কাটিয়েছো,
বাইরের জগতের আলো তোমার চোখে পরেনি।
সত্যি বলার শাস্তি। তুমি ভাবোনি কখনো, সত্যি বলার শাস্তি এত ভয়ঙ্কর!!
দেশের দু একজন বুদ্ধিজীবি তোমার সাথ হয়ত দিতে চেয়েছে,
কিন্তু পরে তারাও পিছিয়ে আসে পরিবারের চিন্তা করে।
তাদেরই বা দোষ দিই কি করে?
দেশের সংবিধানের অসাংবিধানিক নীতি তোমাকে দেশ ছাড়া করে দিল।
মা, তুমি ঘুমের মধ্যেও রক্ত চোখ দেখতে তাইনা?
হয়ত ঘুমোতে, ক্লান্ত হয়ে।
তোমার বুকের মধ্যে প্রতিটা মুহুর্তে কেঁপে উঠেছে,
"এই বুঝি ঘরে ঢুকে এল ওরা,
এই বুঝি ছিন্নভিন্ন করে দিল চাপাতির আঘাতে।
এই বুঝি সব থামিয়ে দিল, শেষ করে দিল আমাকে,
এই বুঝি সত্যের পরাজয় হয়েগেল। "


সেই দেশ কখনো দেশ হয়ে উঠতেই পারেনি মা,
সেই দেশ কখনো সত্যের মুখোমুখি হতে চাইনি।
সেই দেশ ধর্মান্ধের কারাগার।
সেই দেশে মুক্ত চিন্তা নয়, সম্মোহনের খেলা চলে।
সেই দেশ খুনিদের দেশ।
সেই দেশ শুধু একটা রাষ্ট্র মাত্র।


নিরাপত্তার খোঁজে চলে এলে ভারতে।
আশ্রয় পশ্চিমবাংলা।
উস্ক-খুস্ক মুখে তুমি ভেবেছিলে এখান থেকে লড়াই শুরু করবে,
দেশে ফেরার।
কিন্তু এখানেও তোমার ভাষা থামিয়ে দিতে উঠে আসল বজ্জাত সরকার,
সরকার নয়, ওরা মাওবাদী।
তোমার লেখা "দ্বিখন্ডিত"কে খন্ড খন্ড করে জলে ভাসাতে চেয়েছিল।
পুলিশ কমিশনারকেও রাজনীতির দালাল বানিয়ে
তোমাকে হুমকি দিয়েছে।
রিজওয়ান ঘটনার সুযোগ নিয়ে মুসলিম জাতিকে
তোমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে।
আরও কত কি করেছে!!! মনে করতে পারো সেসব মেয়েমা?
বাংলা এখনও মানুষ হয়নি।
বাংলা আজও রাজনীতির একটা মঞ্চ মাত্র।


পুরুষতন্ত্র, ধর্মতন্ত্র, সরকারতন্ত্র
বারেবারে তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
অগ্নিউৎস বলেই তুমি আজও সত্য প্রতিষ্ঠানের লড়াই লড়ে যাচ্ছো।
আজ আর তোমার লড়াইকে ওরা থামাতে পারবেনা,
কারণ তুমি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন "তসলিমা নাসরিন"।
এই বাংলাতেও তোমার প্রত্যাবর্তন হবে।
বঙ্গকন্যা ফিরবেই, আমি বাজপাখির দৃষ্টিতে সেইদিন দেখতে পাচ্ছি।
তোমার আবিষ্কার আমি,
তোমার আদর্শে গড়া সেই অগ্নিদূত হয়ে ফেটে পড়বো।
ফিরিয়ে আনবো তোমাকে এই বাংলায়, সম্মানের সাথে, নৈতিকতা দিয়ে।

                     
                      তোমার
                      সৌম্যজিৎ।

No comments:

Post a Comment