Thursday, 4 August 2016

প্রয়োজনীয়তা বোঝা, জিনিসটাকে সামলানোর মতো যথেষ্ট চেতনা জাগিয়ে তোলাই হলো মূল্যবোধ। এই প্রজন্মে আমি দেখেছি লক্ষ, লক্ষ টাকার শখের জিনিস শুধু শখেই কিনে ফেলছে, অভিভাবকদের জানানোর প্রয়োজন মনে করছে না।  তাহলে পর্যাপ্ত টাকা নিশ্চয় তাদের কাছে থাকছে, বা চাইলেই পেয়ে যাচ্ছে। কেন চাইছে সেটা জানানোর প্রয়োজন মনে করছে না। একটা ছোট বাচ্চার হাতে দামি ফোন তুলে দেওয়া হচ্ছে, মাঠে খেলতে যাওয়ার পরিবর্তে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে টিউশন নিয়ে, স্কুল নিয়ে, বাকি সময়ে ল্যাপটপ, ট্যাব খেলার সামগ্রী হয়ে উঠছে। ল্যাপটপ, ট্যাব নিয়ে চলতে শেখা খারাপ নয়, কিন্তু খারাপ হচ্ছে তার মানসিক চেতনা। সময়ের আগে, প্রয়োজনের অধিক তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। চেতনা পুষ্ট হতে পারেনা এভাবে। এভাবে শুধু তৈরী হয় লোভ, লালসা। চাহিদা এতটাই বাড়তে থাকে, যে কখনো সেটা পূর্ণ না হলে হিংস্রতার রূপ নেয়।


বাবা মায়েদের সময় ভীষণ কম। সন্তানদের খুশি করতে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে দামী দামী উপহার। কখনো এটা ভাবছে না যে সেটা তার সন্তানের বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত কিনা। সন্তানেরাও অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে এভাবেই।  বাবা মায়েরা, অনেক বাবা মায়েরাই সন্তানদের মন বুঝতে পারেনা। তারা নিজেদের মতো করে নিজেদের ইচ্চাগুলোকে সন্তানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে সেই সন্তানেরা মানসিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা তাদের জগৎটাকে অন্যদিকে নিয়ে যেতে শুরু করে। একটু একটু করে বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। পরে তারাই ভয়ঙ্কর রূপ নেয় সমাজে। বাবা মায়েদের উচিৎ সন্তানদের আদর্শ শেখানোর দিকে, মূল্যবোধ শেখানোর দিকে মন দেওয়া।  সন্তানদের কৌতূহল, প্রশ্নগুলোকে সরলভাবে উত্তর দিয়ে বোঝানো। শাসন করার মধ্যে অনেক তারতম্য থাকে। শাসন করা মানে শুধু মারা বা বকা নয়। শাসন কথার অর্থ সমস্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা আমি নিজে করবো, আমার আশ্রয়ে থাকা মানুষটা বা মানুষগুলোকে আদর্শ, মূল্যবোধ, সচেতনতা, সমৃদ্ধি এসবের প্রকৃত জ্ঞান দেবো। 

No comments:

Post a Comment