সাত বৈশাখ আগে, একসময় সম্পর্কের টানাপড়েনে অসহায় হয়ে উঠেছিলাম। এমন নয় যে একে অপরের প্রতি খারাপ লাগা শুরু হয়েছিল। বরং হয়েছিল উল্টোটা। প্রতিদিন একটু একটু করে ভালবাসা বেড়েই চলেছিল, আর তেমনই বেড়ে চলেছিল দুর্বলতা, একে অপরের প্রতি ভীষণ টান, একে অপরের প্রতি নির্ভরতা। এই এতো পরিমাণ বেড়ে যাওয়া দুর্বলতা, ভালবাসা, টান ও নির্ভরতার জন্য যে পরিমাণ দায়বদ্ধতা, ভরসার প্রয়োজন সেটা হয়ত আমি দিতে পারছিলাম না। দিতে পারছিলাম না কারন সেটা দেওয়ার মত বুদ্ধি ও পরিণতি তখনও আমার মধ্যে আসেনি। আর এই অপরিণত বুদ্ধির জন্য মেয়েটিকে অনেক বেশি অনিশ্চয়তাতে ভুগতে হত। অনিশ্চয়তাতে ভোগার কারণ তার বান্ধবীরা যারা প্রেম করত, প্রত্যেকের প্রেমিকই যথেষ্ট বড়, পরিণত মস্তিস্কের ও প্রতিষ্ঠিত। ক্রমেই মেয়েটির সবার কাছে আমাকে নিয়ে ছোট হতে শুরু হল। কটাক্ষের শিকার হল। সেই জেরে আমাদের মধ্যেও মানসিক অশান্তি শুরু হয়েছিল। মেয়েটি সবসময় আমাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকত। আমি কি করছি, কি করবো, কি পরবো, কি পড়বো সবের খোঁজ নিত ও সবকিছুর মধ্যেই ভুল ধরে ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা করত। আমি এসবের মধ্যে হাঁসফাঁস করতাম, কিছু বলতে পারতাম না। আবার ভালও লাগত যে ভালবাসার মানুষটা এতো খেয়াল রাখছে। অসহায়তা যখন চরম পর্যায়ে, মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সাত বৈশাখ আগের কথা। আমি মেয়েটির রুমমেটের সাথে প্ল্যান করে, ছয় ঘণ্টা জার্নি করে মেয়েটির কাছে যাই। মেয়েটি ভাবতে পারেনি যে আমি যাবো। ওর রুমমেট ওকে মন্দিরে প্রণাম করতে আসার নাম করে নিয়ে এসেছিল। মেয়েটি যখন মন্দিরে প্রণাম করছে, আমি পিছন থেকে মেয়েটির মাথায় হাত দিই। মেয়েটি আমাকে না দেখেও বুঝতে পারে আমি, এবং চোখ বন্ধ করেই উচ্চারণ করে "শান্ত।" তারপর পিছন ঘুরে আমার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে একবার আমার দিকে ও একবার ওর বন্ধুর দিকে তাকায়। হেসে ফেলে। ওই হাসিটা খুব ভালো লেগেছিল সেদিন। ওই হাসিটা কোনো টাকা পইসা দিয়ে কিনতে পাওয়া যায়না। মেয়েটি আমার হাত ধরে ভাগীরথী নদীর পাশ দিয়ে হাঁটছিল। সেদিন ও সব কষ্ট ভুলে গেছিল। হঠাৎ প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হয়। আমি দৌঁড়ে একটা দোকানের ছাদের তলায় দাঁড়াতে গেলেও, ওকে দেখি বৃষ্টিতে ভিজঁছে আনন্দের হাসিতে। আমিও ছাদের তলা থেকে বেরিয়ে এসে ওর হাতটা চেপে ধরে বৃষ্টিতে ভিজতে শুরু করলাম একসাথে। অনেক অনেক অভিমান সেদিন ওই বৃষ্টির জলে ধুয়ে গেছিল। শুরু হয়েছিল এক নতুন ভালবাসা।
No comments:
Post a Comment