মা, পাপার কাছে কখনো আবদার করিনি। একসময় পাপার মুখ থেকে মানুষ এমনও শুনেছে যে আমি মুখ ফুটে কখনো কিছু চাইনা। আবার এমনও অনেক সময় হয়েছে মা, পাপা ঘুরতে যাচ্ছে, আমাকে যেতে বলছে তবু আমি যাচ্ছিনা, একা একা নিজের মতো বসে আছি, পড়ছি, অঙ্ক করছি। আবার এমনও হয়েছে মেলাতে মা, পাপার সাথে গেছি বা কোনো দোকানে গেছি, নিজের থেকে যাইনা, আমাকে জোর করে নিয়ে যায়, আমাকে কিছু কিনে দিতে চাইলে, কিছু পছন্দ করতে বললে আমি না করে দিই। গতবছর জন্মদিনে ফোনটা উপহার দিল, তাও জোর করে। তবে হ্যাঁ, আমি আবদার করতে পছন্দ করি, ভীষণই পছন্দ করি। জিনিসপত্রের জন্য নয়, আমার লেখা খুব পছন্দ। মনে আছে, আমি যখন একবার ভীষণ খুশি হয়েছিলাম, আমি মেয়েমার কাছে আবদার করেছিলাম, আমার একটা লেখা শেয়ার করার জন্য। মেয়েমা শুধু শেয়ারই করেনি, সাথে ভালবাসা, শুভেচ্ছা জানিয়েছিল। আমার খুব ভালো লেগেছিল। খুশিতে আমি আবদার করিনা, সেই প্রথমবার ও শেষবার করেছিলাম। কিন্তু আমি যখন খুব কষ্ট পাই, তখন আমি আবদার করে ফেলি কিছু মানুষের কাছে। মেয়েমা, ভালোবাসা, জান্নাত এদের কাছে। আবার যখন খুশি থাকি তখন পুচকে ইতুটাকে আদরও করে দিই। আমার মধ্যে একটা বাচ্চা বাস করে যে প্রচন্ড ভালবাসা পেতে চায়। বুকটা খুব ফাঁকা ফাঁকা লাগছে, টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে, তাই আজ আবদারের কোনো সীমা নেই।
No comments:
Post a Comment