Friday, 14 April 2017

আমি প্রায়ই বিক্ষিপ্ত হই। পড়াশোনা করতে করতে, যখন একটা টপিক কিছুতেই বুঝতে পারিনা, মাথাটা ভীষণরকম চঞ্চল হয়ে ওঠে। জোরে শব্দ সহ্য করতে পারিনা, তাতে একাগ্রতা ভঙ্গ হয়। এই নিয়ে বেশি কিছু বলতেও পারিনা। এক জায়গাতে থাকতে গেলে সবাই সবটা বোঝেনা, বরং মূল বিষয়টুকু বাদ দিয়ে ওই যে "জোরে কথা বোলোনা, অসুবিধা হয়" এই কথা নিয়েই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। পরিস্থিতি থেকে নিষ্কৃতি পেতে ও একাগ্রতা ফিরে পেতে তখন মেয়েমার কাছেই অবান্তর সব আবদার করে ফেলি, বুঝিনা মানুষটা তাতে বিরক্ত হয় কিনা। যদিও কখনো সে বিরক্তি প্রকাশ করেননি। আরেকটা কাজ আমি করি, চোখ বন্ধ করে থাকি কিছুক্ষণ। চিন্তা, ভাবনাকে স্থির করে দেওয়ার চেষ্টা করি কিছুক্ষণ। ছোটথেকে যতবারই এমন চেষ্টা করেছি, বারবারই দেখেছি এক বিশাল অন্তরীক্ষ, একটা লম্বা ও সরু সুড়ঙ্গ। আমি সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে দৌঁড়ে যাচ্ছি, সামনে একটা আলোক উৎস দেখতে পাচ্ছি, মনে হচ্ছে আরেকটু গেলেই ছুঁতে পারবো। কিন্তু যতই সামনে এগোচ্ছি, ততই মনে হচ্ছে ঠিক আগে যতটা দূরে ছিল সেই আলোক উৎস, এখনো ততটাই দূরে আছে। আমি শুধু সেটাকে লক্ষ্য করে দৌঁড়েই যাচ্ছি। ছুঁতে পারিনা। কিন্তু কিছুক্ষণ পর চোখ খুললে মাথা ফাঁকা লাগে, মন শান্ত লাগে। কিছুক্ষণ আবার পড়তে পারি। পড়াশোনা করতে গেলে মনে অশান্তি নিয়ে সেটা কখনো সম্ভব হয়না। একজন পড়ুয়ার মনে সবসময়ই শান্তি ও জানার ইচ্ছা থাকাটা ভীষণ প্রয়োজন।

No comments:

Post a Comment