Sunday, 4 September 2016

সে বলেছিল শরিয়তি নিয়মের সংশোধন প্রয়োজন, তবেই নারী মর্যাদা পাবে। সে কখনোই বলেনি ইসলামের সংশোধন প্রয়োজন। মিথ্যে কলঙ্ক দিয়ে তাকে মারার চেষ্টা করা হল। অপদস্ত করা হল রাস্তাতে তার বৃদ্ধ বাবার গায়ে হাত তুলে,  ডাক্তারখানাতে ভাংচুর করে, তাকে দেশ ছাড়া করে। গোটা মানুষজাতির লজ্জা। আর পশ্চিমবঙ্গ যেটা করেছিল বা করছে, সেটা আমার ভারতের লজ্জা, দেশবাসীর কলঙ্ক। এরা শুধু অমানুষই হতে পেরেছে, শিক্ষার আলোকে মানুষ হয়ে উঠতে পারেনি। "লজ্জা" লেখা হয়েছিল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিষয়ে মানুষের মনে চেতনার উন্মেষ ঘটাতে,  বাংলাদেশকে অপদস্ত করতে নয় বা মুসলিম জাতিকে নিচু করতে লেখা হয়নি। তবু তার দিকে অভিযোগ তোলা হল যে সে ভারতের হয়ে দালালি করে বাংলাদেশের সম্মানহানি করেছে। মৌলবাদরা কি এতটাই অন্ধ! দেশের সাধারন নাগরিকরা কি এতটাই বোকা বা সম্মহিত! অনেক প্রশ্ন ঘোরাফেরা করে, তোমরা নিজেদের মানসিকতাকে জিজ্ঞাসা কর। ভারত আর বাংলাদেশ নামেই আলাদা, সীমানা তৈরি করে আলাদা করা হয়েছে, রাজনৈতিক হিংসা, আক্রোশ, একে অপরকে নিচু দেখানোর চেষ্টা করছে সাধারন মানুষ। প্রশ্ন কর নিজেদের মানসিকতাকে, মানুষ হয়ে আমরা কি শুধু সীমানাভিত্তিক হিংসাকেই প্রশ্রয় দেব? নাকি একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হব?

"মানুষ হয়ে জন্মেছ, মানুষ জন্মকে বৃথা যেতে দিওনা।
ভালোবাসো, ভালোবাসা দিয়ে ভালোবাসাকে অমর করে তোলো।
মনুষ্যত্বকে দৃষ্টান্ত করে তোলো।"

বীর যোদ্ধা।
সৌম্যজিৎ।

ওই দ্যাখ এক বীর, মানুষ হয়ে এসেছে মানুষ গড়তে,
সবাই তাকে বলেছিল নারী,
নারী তাই তাকে দুর্বল হতে হবে, নারী তাই তাকে পরনির্ভর হতে হবে,
নারী তাই তাকে আটকা পড়তে হবে শেকল বাঁধা পায়ে ...

নারীই, তবে নারীবীর, নারী শ্রেষ্ট যোদ্ধা,
নারীত্ব তার দুর্বলতা নয়, বরং সে নারীত্বের অহংকার।
কত কিই না করেছে, কত কিই না সয়েছে সে,
রাতের পর রাত, দিনের পর দিন
মৃত্যু তাকে ধাওয়া করেছে পিছন পিছন,
সে ভেঙেছে, ভয় পেয়েছে মনে মনে,
আবার উঠে দাঁড়িয়েছে একাই সব ভয়কে পিছনে ঠেলে,
সে দাঁড়িয়েছে আদর্শকে হাতিয়ার করে,
সততা, নিষ্ঠা আর ভালোবাসাকে প্রাণে ধরে।
সর্বকালের শ্রেষ্ট যোদ্ধা সে আমার চোখে,
সর্বকালের সেরা আদর্শবিদ।
আদর্শ যার শিরায়, মজ্জায় প্রবাহিত,
তাকে তোরা মারবি কি?

শোন মৌলবাদের দল,
তোরা অনেক মিলে তাকে মারতে চেয়েছিস, কাটতে চেয়েছিস,
সে একাই তোদের দিয়েছে লজ্জা,
আঘাত হেনেছে তোদের পুরুষত্বে,
আজ তোরা কলঙ্কিত।
কলঙ্ক তোদের ললাটে লেগে আছে,
তোদের দেখে হাসি পায়, তোদের দেখে করুণা জাগে মনে,
মানুষ রূপে অমানুষই হয়েছিস,
কলঙ্কিত করেছিস ধরণী বুক।

মুসলিম বলে গর্ববোধ করিস মিছেই,
তোরা জানিসই না শরিয়তি আর ইসলাম,
মিথ্যে কলঙ্কের কালি লেপে-
অসভ্যের মতো অস্ত্রহাতে রাস্তায় বেরিয়েছিলিস,
তবে ধর্ম করলি কোথায়?
ধর্ম হল মনুষ্যত্বকে নিজমধ্যে ধারন করা,
ধর্ম মানে মানুষ মারা নয়,
ধর্ম মানে গালাগালি বা কোনো জাত নয়,
ধর্ম আসে কর্মে, সম্মানে, ভালোবাসাতে।
তোরা ধার্মিক হতে শিখিসইনি।

গর্ব করি আমি মানুষ জন্ম নিয়ে,
গর্ব করি তার আদর্শে আলোকিত হয়ে,
আদর্শ আর শিক্ষা দেখেছি তার জ্ঞানের আলোকে,
তোদের দেখি শুধুই অন্ধকারের রাজত্বে।

হিংসা, হানাহানি সব ডুবেছে ভালোবাসাতে,
ভালোবাসতে শিখেছি, ভালোবাসাকে জেনেছি, উপলব্ধি করেছি,
ভালোবাসাতে মর্যাদা খুঁজে পাই গর্ব করার,
মিথ্যে কে নিয়ে অহঙ্কার কখনো আদর্শ হতে পারেনা।

No comments:

Post a Comment