Sunday, 4 September 2016

বীর যোদ্ধা। 
সৌম্যজিৎ। 

ওই দ্যাখ এক বীর, মানুষ হয়ে এসেছে মানুষ গড়তে,
সবাই তাকে বলেছিল নারী,
নারী তাই তাকে দুর্বল হতে হবে, নারী তাই তাকে পরনির্ভর হতে হবে,
নারী তাই তাকে আটকা পড়তে হবে শেকল বাঁধা পায়ে ...


নারীই, তবে নারীবীর, নারী শ্রেষ্ট যোদ্ধা,
নারীত্ব তার দুর্বলতা নয়, বরং সে নারীত্বের অহংকার। 
কত কিই না করেছে, কত কিই না সয়েছে সে,
রাতের পর রাত, দিনের পর দিন 
মৃত্যু তাকে ধাওয়া করেছে পিছন পিছন, 
সে ভেঙেছে, ভয় পেয়েছে মনে মনে,
আবার উঠে দাঁড়িয়েছে একাই সব ভয়কে পিছনে ঠেলে,
সে দাঁড়িয়েছে আদর্শকে হাতিয়ার করে,
সততা, নিষ্ঠা আর ভালোবাসাকে প্রাণে ধরে। 
সর্বকালের শ্রেষ্ট যোদ্ধা সে আমার চোখে,
সর্বকালের সেরা আদর্শবিদ।
আদর্শ যার শিরায়, মজ্জায় প্রবাহিত,
তাকে তোরা মারবি কি?


শোন মৌলবাদের দল, 
তোরা অনেক মিলে তাকে মারতে চেয়েছিস, কাটতে চেয়েছিস,
সে একাই তোদের দিয়েছে লজ্জা, 
আঘাত হেনেছে তোদের পুরুষত্বে,
আজ তোরা কলঙ্কিত। 
কলঙ্ক তোদের ললাটে লেগে আছে,
তোদের দেখে হাসি পায়, তোদের দেখে করুণা জাগে মনে,
মানুষ রূপে অমানুষই হয়েছিস,
কলঙ্কিত করেছিস ধরণী বুক। 


মুসলিম বলে গর্ববোধ করিস মিছেই,
তোরা জানিসই না শরিয়তি আর ইসলাম,
মিথ্যে কলঙ্কের কালি লেপে-
অসভ্যের মতো অস্ত্রহাতে রাস্তায় বেরিয়েছিলিস,
তবে ধর্ম করলি কোথায়?
ধর্ম হল মনুষ্যত্বকে নিজমধ্যে ধারন করা,
ধর্ম মানে মানুষ মারা নয়,
ধর্ম মানে গালাগালি বা কোনো জাত নয়,
ধর্ম আসে কর্মে, সম্মানে, ভালোবাসাতে। 
তোরা ধার্মিক হতে শিখিসইনি।


গর্ব করি আমি মানুষ জন্ম নিয়ে,
গর্ব করি তার আদর্শে আলোকিত হয়ে,
আদর্শ আর শিক্ষা দেখেছি তার জ্ঞানের আলোকে,
তোদের দেখি শুধুই অন্ধকারের রাজত্বে। 


হিংসা, হানাহানি সব ডুবেছে ভালোবাসাতে,
ভালোবাসতে শিখেছি, ভালোবাসাকে জেনেছি, উপলব্ধি করেছি, 
ভালোবাসাতে মর্যাদা খুঁজে পাই গর্ব করার,
মিথ্যে কে নিয়ে অহঙ্কার কখনো আদর্শ হতে পারেনা। 

No comments:

Post a Comment