Monday, 13 February 2017

একজাইল পড়লাম। বেশ কিছুটা পড়েছিলাম পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে, তারপর লেখিকার আদেশে একজাইল রেখে পরীক্ষার পড়া পড়তে শুরু করি। পরীক্ষা শেষে তাই আবার একজাইল নিয়ে বসে গেলাম। একদম শুরু থেকে। একজাইল সম্পর্কিত কিছু বলি। সবার প্রথমে বলি, একজাইল- লেখিকা তসলিমা নাসরিনের লেখা "নির্বাসন" এর ভাষান্তরিত ইংরাজি সংস্করণ। ভাষান্তরের কৃতিত্ব ও শ্রদ্ধা মহার্ঘ্য চক্রবর্তী মহাশয়ের প্রাপ্য। পেঙ্গুইন পাবলিকেশনকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের হাতে বইটা তুলে দেওয়ার জন্য।

সূচীপত্রে যে দশটি অধ্যায় আছে -

১) ফরবিডেন,
২) অ্যান্ড দেন ওয়ান ডে ...
৩) হাউজ অ্যারেস্ট,
৪) কনভারসেসনস,
৫) ডেথ ওয়েটস পাস্ট দ্যা উইন্ডো,
৬) একজাইল্ড,
৭) ফেয়ারওয়েল, ২২ নভেম্বর ২০০৭,
8) পোয়েমস ফ্রম অ্যা সেফ হাউজ,
৯) একসারপ্টস ফ্রম অ্যা ডায়েরি,
১০) নো, নট হিআর! এলসহ্যয়ার! ইন অ্যানাদার ল্যান্ড!



সূচনাতে আমরা দেখতে পেয়েছি - একজাইল এর বাংলা মূল বই "নির্বাসন"-এর প্রথম প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল ২০১১ সালে কলকাতা বইমেলাতে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে যেটা শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়ে ওঠেনি। লেখিকার উক্তি - "My name had been prohibited in West Bengal, much like how it had been prohibited in Bangladesh so long ago."

লেখিকাকে কিভাবে পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করা হল,  পশ্চিমবঙ্গ থেকে বহিষ্কার করা হল, তার পরবর্তীকালে কি কি ঘটনা ঘটেছে লেখিকার জীবনে, রাজনীতির খেলা লেখিকার জীবনে কিভাবে অন্ধকারের ছায়া নামিয়ে নিয়ে এসেছিল, "ক" (পশ্চিমবঙ্গে "দ্বিখণ্ডিত") নিয়ে যেসমস্ত সমালোচনা   ঝড় বইয়ে দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে, রাজনীতির মিথ্যাচার, পুরুষতন্ত্রের গোঁড়ামি, লেখক সমাজে লেখিকাকে একঘরে করে দিতে ও প্রচারের আলোতে নিজেদের নাম নিয়ে মাথা চাড়া দিতে লেখিকার বিরুদ্ধে কিভাবে এগিয়ে আসে দুদেশের এক ঝাঁক নামী, অনামী লেখক, লেখিকারা এবং দ্বিখণ্ডিতকে অশ্লীল করতে, লেখিকাকে অশ্লীল করতে ভাষা জ্ঞানের, চেতনার ও শিক্ষার প্রসারের যে শ্লীলতাহানী  করেছিলেন ওই এক ঝাঁক লেখক, লেখিকারা, সেই সমস্তকিছুই অকপটে, প্রকাশ্য চিত্রের মতো তুলে ধরেছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন।


এই বইটা শুধুমাত্র যে জানার কৌতূহলে পড়ার জন্য, তা নয়। সত্য ও বাস্তব ঘটনাগুলো এতটাই অকপট এবং সমাজ চেতনার আদর্শের ক্ষেত্রে সত্যকে জানতে, বাস্তবকে বুঝতে বইটা বিশেষ শিক্ষণীয় ও যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। লেখিকার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য এবং সমাজ বিভিশিখা ও বিশৃঙ্খলতার সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য, লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।



                                                             
- সৌম্যজিৎ।




No comments:

Post a Comment