নির্বাসন।
সৌম্যজিৎ।
উৎসর্গ- নির্বাসিত লেখিকাকে।
সত্যিকে ওরা মানতে পারে না,
সত্যিকে ওরা জানতে চাইনা,
সম্মোহনের শক্তিতে মাতালের মতো অচৈতন্য হয়ে পড়ে থাকতে চায় যুগের পর যুগ,
গায়ে গোঁড়ামির বোটকা গন্ধটা তীব্র নাশকতা ছড়িয়ে বেড়ায়।
দেশ ছাড়া, আপন ভিটে মাটি ছাড়া হয়ে গেছি,
সত্যি বলতে যে জোর লাগে তাকে আদর্শ করে, কোনো লুকোচুরি না করে
লিখেছি, বলেছি, তুলে ধরেছি,
ভালো, মন্দ যা'কিছু ছিল সব বলেছি,
ওরা মানতে পারেনি।
দর্পণে নিজেদের প্রতিবিম্ব দেখে, কুৎসিত চেহারার যে ভাবমূর্তির পরিচয় -
ওরা পেয়েছিল আমার লেখাতে,
গায়ের জোরে ক্ষমতা দেখিয়ে নষ্ট করতে চেয়েছে প্রতিটা পাতা, প্রতিটা লেখা।
নির্বাসিত আমি,
নির্বাসন হয়েছে আমার জন্মভূমি থেকে,
নির্বাসন আরেক বাংলা থেকেও।
কখন রাত আসে বা কখন দিন তার হিসেব ভুলে যাই,
ঘুমহীন, ক্লান্ত চোখে তাকিয়ে সামনে টেবিল ল্যাম্পের নিচে রাখা ডায়েরিটাতে -
মুখ গুঁজে লিখতে থাকি, কখনো পুরোনো স্মৃতিগুলোকে রোমন্থন করি,
আবার ভাবতে থাকি কি এমন করেছিলাম, শুধু সত্যিকে সাধারণভাবে তুলে ধরেছিলাম -
এক আদর্শের নেশায়,
ঘরের মধ্যে পায়চারি করতে থাকি,
মাথাতে কিছু আসতে চাইনা।
আমার মেয়েটা যদি এখন থাকত, ওর সাথে কথা বলতে পারতাম,
খেলতে পারতাম, হাসতে পারতাম।
বাংলা ভাষা বলার মতো একজনও পাইনা,
বাংলা ভাষা আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে সকাল -দুপুর -
বিকেল, রাতের বেলাতে ঘুমের মাঝেও,
মিনুটা যদি থাকত,
ওর সাথে আমি বাংলায় কথা বলতে পারতাম,
কাঁদতে পারতাম, গাইতে পারতাম, বুকের মাঝে জড়িয়ে ওকে ঘুম পাড়াতাম।
তুমি অপেক্ষা করো আমার বাংলা,
আমি ফিরে আসবো তোমার বুকে আবার,
তুমি অপেক্ষা করে থেক কলকাতা,
অপেক্ষা করো রওডন স্ট্রিটের বাড়িটা,
তোমরা অপেক্ষা কর দুহাত ভরে আমায় ফিরে পেতে,
আমি একদিন ফিরবো আবার তোমাদের বাংলায়,
বাংলা আমার জন্মগত অধিকার।
No comments:
Post a Comment