Wednesday, 12 October 2016


প্রথম তুমি।
সৌম্যজিৎ।


নন্দনে গাছতলাটাতে বসে অপেক্ষা করছিলাম সেদিন,
অপেক্ষা করছিলাম আর বারবার মোবাইলের ক্যামেরাতে চোখ চলে যাচ্ছিল,
দেখছিলাম যদি প্রথম দেখায় আমাকে খারাপ লাগে তোমার,
বারবার এলোমেলো চুলগুলো ঠিক করছিলাম, বারবার মুখে নানারকম হাসি দিয়ে
একটু সহজ হওয়ার চেষ্টা করছিলাম,
এসবের ফাঁকে বারবার ঘড়ির দিকে চোখ চলে যাচ্ছিল, সময় এগিয়ে আসছে, -
এগিয়ে আসছ তুমিও একটু একটু করে আমার দিকে,
মনে মনে দিনের আলোতেই নানান কল্পনাতে ভাসছিলাম, হাসছিলাম।
হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠতেই অস্থির হয়ে যাই,
এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি গোটা শরীর, মন দিয়ে বয়ে গেল,
আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে তোমাকে খুঁজতে থাকি, ভাবতে থাকি -
কেমন হবে তুমি, কেমন হবে আমাদের প্রথম দেখা, কেমন হবে আমাদের প্রথম কথা!
তুমি কি আমাকে পছন্দ করবে ওই প্রথম দেখাতেই!
তুমি কি ভালবাসবে আমাকে!
ফুলের গোছাটা নিয়ে বারবার এহাত ওহাত করে দেখছিলাম, ভাবছিলাম কিভাবে ধরবো,
কিভাবে ওটা তোমার হাতে দেবো, আরও কতকিছু ...


তুমি যখন এলে, দূর থেকেই গাছতলাটাতে বসে আমি চিনে নিয়েছিলাম,
তখন একটাবারের জন্যও মনে হয়নি তুমি নতুন একজন,
একটাবারের জন্যও আর মনে হয়নি আমাদের প্রথম দেখা হচ্ছে,
সবুজ শাড়িটাতে খুব সুন্দর লাগছিল দূর থেকে, আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম,
হাসছিলাম, অজান্তেই হাত নেড়ে তোমাকে বলছিলাম - আমি এখানে।
হাসতে হাসতে তুমি আমার পাশে এসে দাঁড়ালে, আমি তোমার পাশে হাঁটতে হাঁটতে -
বারবার তোমার হাতে হাত ছুঁয়ে দিচ্ছিলাম।
ক্যাথেড্রালে ঢুকতেই বাতাসময় ছাতিমের গন্ধে তোমার নেচে ওঠা মনটা
আমি দেখতে পাচ্ছিলাম সেদিন।
শরীর ভেদ করে যেন তোমার মনটা আমার চোখের সামনে,
যেন সাদা পর্দার ওপারে আমি এক ছায়াছবি দেখতে পাচ্ছি।
ক্যাথেড্রালে প্রথম তোমার পাশে, খুব কাছে গিয়ে বসি,
ফিসফিস করে বলে ওঠা কথাগুলোতে যেন দুজনের নিঃশ্বাস দুজনের চোখে -
মুখে একাকার হয়ে যাচ্ছে,
ক্যাথেড্রাল হলঘরটাতে আমার মুক্ত বাতাসের ঘ্রাণ আমি তোমার থেকেই পাচ্ছি,
তোমাকে দেখছি, হাসছি, তোমার শরীরের গন্ধটা উপভোগ করছিলাম।


আরও কাছথেকে তোমাকে পেতে ইচ্ছা করছিল,
আরও কাছে তোমাকে ধরতে ইচ্ছা করছিল,
আরও কাছে, আরও চেপে, খুব জোরে চেপে ধরতে মন চাইছিল।
হাত ধরে পাশাপাশি ভিক্টোরিয়া যাওয়ার পথে -
ছাতিম গাছগুলো যেন আমাদের অভিনন্দন জানাচ্ছিল সেদিন,
অভিনন্দন জানাচ্ছিল মেঘলা আকাশ কেটে গিয়ে হটাৎ করে আসা রৌদ্রের আলোক,
অভিনন্দন জানিয়েছিল রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা হিজড়ে মাসিরাও,
দুহাত ভরে স্বাগত জানিয়েছিল ইতিহাস বহনকারী ভিক্টোরিয়ার গেট।
ওই পাখিদের সাক্ষী রেখে, গাছগুলকে সাক্ষী রেখে,
সমস্ত প্রেমিক-প্রেমিকাদের সাক্ষী রেখে, আকাশ, সূর্য, মেঘকে সাক্ষী রেখে,
লজ্জার বাধ ছিন্ন করে তোমার ঠোঁটে আমার ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়েছিলাম,
লজ্জায় তুমি গুটিয়ে গেছিলে লজ্জাবতি লতার মতো,
আমি তোমার পিঠে মাথা রেখে চুমু খেয়ে যাচ্ছিলাম অনবরত,
তোমাকে কোলের মধ্যে চেপে ধরে চুমু খেয়েছি যেমন ইচ্ছা তেমন খুশি,
তোমার কোলে মাথা রেখে শান্তির শয়নে কাটিয়েছি কিছু মুহূর্ত,
আমার চেতনাজুরে তোমার ছোঁয়া লেগেছিল সারাক্ষণ।


জুরে থাকবো ততদিন যতদিন নিঃশ্বাস পড়ে,
জুরে থাকবো এভাবেই ততদিন যতদিন আমি ভালোবাসার পূর্ণতা বুঝতে না পারি,
পাশে থেকো তুমি আমার সাহস হয়ে,
ছুঁয়ে রেখো সমস্ত চেতনা জুরে,
ভালোবেসে ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রেখো সযত্নে,
আমি তোমাকেই আঁকড়ে রাখবো আজীবন। 

No comments:

Post a Comment