তসলিমা নাসরিন।
সৌম্যজিৎ।
তোমার লড়াই ছিল স্বাধীনতার,
স্বাধীনতা মুক্ত চিন্তার,
মানবতার।
ধর্মের নামে যে অরাজকতা তৈরী করেছিল সমাজ,-
তুমি চেয়েছিলে সেসবের মুখোশ খুলতে।
মুখোশের আড়ালে ছিল ভন্ড ধার্মিক, সরকারতন্ত্র,
তোমার জাগরণে আঁতে ঘা লেগেছিল তাদের,
চুপ করাতে চেয়েছিল ওরা সেই জেগে ওঠা মানুষটাকে।
একের পর এক প্রয়াস যখন তোমাকে দম বন্ধ করে,
চিন্তার মধ্যে ঢুকে বন্দী করতে চেয়েছে, তুমি থেমে যাওনি,
মাথা নত করোনি তাদের সামনে,
মাথা নত করোনি সমাজ অবক্ষয়ের কথা ভেবে।
ওরা ভাবে তুমি ভন্ড, ওরা ভাবে তুমি ধর্ম বোঝো না,
ওরা ভাবে তুমি ধর্ম জানো না, ভাবে তুমি ধর্মে অশিক্ষিত।
ওরা এটা জানেনা, ধর্মের ভিতরে প্রবেশ না করলে,
অনুভব না করলে, ধর্মের নিকৃষ্ট আইনগুলো বোঝা যায়না।
আমি সমালোচনা করি তাদের যারা নিজেদের
ধার্মিক বলে অহংকার করে।
তবে কি তারা ধর্ম বোঝেনি?
কোন ধর্ম বলে, মানুষ হোক ধর্মের স্বার্থে?
ধর্ম গড়া হয়েছিল মানুষের স্বার্থে, মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে।
তবে কেন আজ ধর্ম দালাল ধার্মিক গুলো মানুষ বিভেদ,
জাতিভেদ করে?
কেন আজও দুটো মানুষের প্রেমে ধর্ম বিভেদের লাঞ্চনা?
কেন আজও রাজস্থানে খাঁক মহাসভা হয়,
যেখানে মনুষত্ব নয়, ধর্মই শুধু বিচারের দৃষ্টিভঙ্গি?
কোন ধর্ম বলে, ধর্ম না মানলে চাপাতি চলবে?
কোন ধর্ম বলে, সমাজে নারী পুরুষ বিভেদ করে সমাজকে পুরুষতান্ত্রিক কর?
ধর্ম কেন্দ্রিক দালাল গুলো নিজেদের ক্ষমতা বজায় রাখতে,
গোঁড়ামিকে অস্ত্র করেছে।
তসলিমা নাসরিন সেই দিকটা মানুষের সামনে তুলে ধরতেই,
তাদের ব্যবসাতে আঘাত লাগে,
ধর্ম ব্যবসায় আঘাত মানেই, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলতা,
যার ফল তসলিমা নাসরিন আজও নির্বাসিত।
এমন ঘটনা নতুন কি? এ তো শুধুই প্রথা।
সে যুগেও কোপারনিকাস, গ্যালিলিও বিজ্ঞানের ভাষায় কথা বলতেই,
ধর্মকেন্দ্রিক ধার্মিক গুলো চেঁচিয়ে উঠেছিল, মানুষও ধর্মের সাথে থেকে-
বিজ্ঞানকে আটকাতে চেয়েছিল।
সত্য আটকে থাকেনি। সত্যের পথ যুক্তিতে,
মুক্তিতে।
মুক্ত চিন্তাও আটকে থাকবেনা।
তসলিমা নাসরিন,
তুমি উঠবেই মাথা উঁচিয়ে,
তোমার চিন্তা মুক্ত পথে।
আমি আছি, আমরা আছি. বিশ্ব লড়াইতে তোমার সাথ দেব,
ভেঙে দেব মুক্তপথের পায়ের শেকল,
সৃষ্টি করব মানবতন্ত্র।
No comments:
Post a Comment