প্রস্তুতি।
সৌম্যজিত দত্ত।
পাহাড় সমান সিলেবাস
থেসিস, প্র্যাকটিকাল, ভাইভা।
জীবন অতিষ্ট।
তবু হারব কেন?
তিরিশ টা দিন হাতে বাকি,
লড়াই চলবে শুধু মাথায়।
ডেটা স্ট্রাকচার ভর্তি এরে, লিংকলিস্ট, এলগরিদম।
কোথাও নেই কোনো মাপ।
অটোমাটাও যায়না কিছু কম,
সময় তো আর একটা মাস।
দাবার গুটি সাজায় মনে,
রাজা আমার চিন্তা ঘোরে ,
মন্ত্রীকে দিল হাঁক।
বল মন্ত্রী উপায় কি তবে,
শত্রু আসছে ধেয়ে,
সময়তো সেই একটাই মাস।
মন্ত্রী গেল চিন্তায় পরে,
রাজার আদেশে উপায় সে খোঁজে,
চিন্তা ভাবনা বিস্তর গভির।
অবশেষে উপায় এলো বেরিয়ে।
হাসতে হাসতে মন্ত্রী আসে
রাজার দরবারে,
বলেন মন্ত্রী "রাজা মশাই ,
এতো বৃষ্টি কালীন সময়।
ঘোড়া ছুটবেনা খোলা মাঠেও,
শত্রুকে আসতে দিন ধেয়ে,
আমরা যাবো হাতির পিঠে চেপে।
সময় লাগুক, যেটুকু যাবো, সুস্থ থাকবো,
লড়াই হবে মজবুত।
বরং শত্রু আসুক ঘোড়ার পিঠে ধেয়ে।"
শুনে রাজা বেজায় খুশি,
"ঠিকিতো, অল্প সময়ের কাদার মধ্যে আস্তে আস্তে যাওয়াই উচিত,
তাতে লড়াইয়ের শক্তি সংরক্ষিত থাকবে।
মানুসিকতাও থাকবে সতেজ।"
এবার হবে স্ট্রাটেজি প্ল্যানিং,
ডাক পরলো সেনাপতির।
বিপক্ষের অস্ত্র, সেনা প্রচুর।
লড়াইতে তো টিকে থেকে লড়তে হবে।
সেনাপতি বললো রাজামশাই,
"আমরা লড়বো u- আকারে।
অর্থাৎ, দুপাশ দিয়ে সৈন্যদল ছুটবে,
পেছনে প্রসারিত হবে হাতিবাহিনী।
ঠিক যেন u-আকৃতি।
শত্রুদল কাছে আসতেই,
u এর বেরি ওদের ঘিরে
ধারন করবে o-আকার।
শত্রুদল মাঝখানে পরে,
o -আকার সৈন্যের অস্ত্রাঘাতে পিষ্ঠ হবে। "
রাজামশাই বেজায় খুশি,
"ঠিকিতো, বিপক্ষ যদি হয় ঘেরাও,
লড়াই তবে লড়াই নয়, হবে ছেলে খেলা।
জিতব আমরা নিশ্চই।"
সিলেবাস যতই বড় হোক, বিশাল হোক,
একটা একটা করে স্টেপ নিয়ে আস্তে আস্তে পড়ব।
তাতে যেটুকু পথ এগোই, শক্ত ভাবে এগোবো।
হাতেতো আছে এখনো একটা মাস সময়।
ছোটো ও সোজা চ্যাপ্টার গুলো দুপাশ দিয়ে খেলবো,
আগে বাড়িয়ে দেবো,
অপেক্ষাকৃত বড় ও কঠিন গুলো সময় ধরে,
আস্তে আস্তে খেলব, যেন পিছনে প্রসারিত করে।
পরীক্ষা যখন হাতের নাগালে পৌঁছে যাবে,
তখন o- আকারে ঘিরে ফেলবো।
জিতব নিশ্চই।
No comments:
Post a Comment