পাণ্ডুলিপির প্রথম কবিতা। প্রথমে ঠিক করেছিলাম নাম দেবো "গেরন।" পরে সেটা পাল্টে নাম দিলাম "উৎসর্গ।"
রওডন স্ট্রীটের বাড়িটা।
উৎসর্গ - নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে।
-সৌম্যজিৎ।
এক বিষণ্ণ সময় যেন থমকে গেছে দেওয়ালগুলোতে আবদ্ধ বাতাসে,
দরজা, জানালাগুলো নিষ্প্রাণ শুধু দাঁড়িয়ে আছে,
ভিতরে ভ্যাঁপসা গন্ধটা নিঃশব্দে প্রতিবাদ জানাচ্ছে মৃত প্রায় হয়েই,
ওরা কথা বলেনা,
ওরা চিৎকার করেনা,
মারামারি, হানাহানি, খুনোখুনি করেনা,
ওরা শুধু প্রতিবাদ করে অনুভূতির পর্দায় ধাক্কা দিয়ে,
ওরা প্রতিবাদ জানায় তাদের কাছেই যারা বিবেকের দরজা বন্ধ করে দেয়নি,
ওরা রাজনৈতিক দেওয়াল ভেদ করে আত্মপ্রকাশ করতে শেখেনি।
তসলিমা নাসরিন তুমি শুনতে পাও ওই দেওয়ালগুলোর রাতের নিঃশব্দ কান্না!
ওই যে দেওয়াল জুড়ে তোমার কতশত ছোঁয়া খেলা করেছে,
তোমার আঁকা ছবিগুলোকে ওরা বুকে ধরে রেখেছিল পরম স্নেহে!
ওই যে মেঝের শীতল ছোঁয়া যখন তোমার পায়ে পায়ে খেলা করেছে আপন করে
যেভাবে ধরণীর মাটি খেলা করে শিশুপায়ে!
ওই যে পড়ার টেবিলে বসে তুমি তৈরি করেছিলে
ন্যায়ের তহবিল!
মানুষের বিবেকে জোর ধাক্কা দিয়ে ছিটকে দিতে চেয়েছিলে চিন্তার গোঁড়ামিকে!
মানুষের চিন্তাতে কিছু এসে যায়নি তাতে,
কিন্তু ওই ঘর, ওই বারান্দা, ওই পড়ার টেবিল, ওই দেওয়ালগুলো হারিয়েছিল তাদের
পরম স্নেহে ধরে রাখা মানুষটাকে,
যেদিন তুমি নির্বাসনে চলে গেলে ওদের একা করে দিয়ে,
ওরা সেদিন অনাথ হয়ে গেছিল,
আজও অনাথ হয়ে পড়ে আছে কোলাহলের শহরে একপ্রান্তে মাথা গুঁজে,
কারোর কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই ওই ইট পাথরে গড়া বাড়িটার একাকীত্বে।
যদি পারতাম লেখার জাহাজে উড়িয়ে এক মুহূর্তে তোমাকে ওদের কাছে এনে দিতে,
যদি পারতাম ওই অনাথ হয়ে যাওয়া বাড়িটাকে ওদের ভালবাসা ফিরিয়ে দিতে,
যদি পারতাম আবার ঘরময় আলোই আলোই ভরিয়ে দিতে,
যদি পারতাম আবার দরজা জানালাগুলো দিয়ে প্রথম সূর্যের কিরণ দিতে!
ওদের মত নিজেকেও বড্ড অসহায় লাগে আজ,
ওদের মতই আমিও যেন অনাথ হয়ে পড়ে আছি এই বাংলায়,
আমারও দীর্ঘশ্বাস পড়ছে মুহূর্তে মুহূর্তে,
চাপা কান্নার হাহাকার উঠছে নাভিশ্বাস ঠেলে,
আমিও আজ তলিয়ে যাচ্ছি ওই ঘরবন্ধ ভ্যাঁপসা বাতাসের মধ্যে দিয়ে অন্ধকারের অতল গভীরে,
হারিয়ে যাচ্ছি ক্রমশ নিজেরই অস্তিত্ব থেকে।
আমার বুকে বাংলা আজ বড় অসম্পূর্ণ -
তুমি ছাড়া ..
প্রেম ছাড়া ..
No comments:
Post a Comment