এই লেখাটা লিখেছিলাম একসময়। এরপর আরও পাঁচটা প্রেম হয়েছে আমার। সবশেষে পেলাম ভালোবাসাকে। আমি ভীষণ খুশি। কিন্তু অতীত আমাকে তাড়া করা এখনও ছাড়েনি। অন্যায়টা হয়ত খুব বেশিই করে ফেলেছি। এমন অকপট স্বীকারোক্তি আমাকে অনেক বেশি সাহস দেয়।
**********************************************************************************************************************
পায়েল আমার জীবনে প্রথম প্রেমিকা হয়ে এসেছিল। আমরা অনেক ছোট থেকে একে অপরকে চিনতাম। ২০০৩ এ আমি বারো বছর বয়স এর একটু বেশি হবো, ক্লাস নাইনে পড়ি, আমি পায়েলকে ভালোবেসে ফেলি। ওই সময় অন্য একটা মেয়ে আমাকে পছন্দ করত বা ভালবাসত কিছু একটা হবে যার জন্য পায়েল আমার কাছে আসতে চায়নি। অনেক টানাপোড়েন, অনেক মান অভিমান ও বিতর্কের পর ২০০৬ তে পায়েল আমাকে প্রপোজ করে। আমরা অনেক খুশি ছিলাম। দুজনের বাড়ি থেকে আমাদের সম্পর্ক কেউ মেনে নেয়নি। আমার ওপর অনেক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন হত, পায়েলের ওপরেও মানসিক অত্যাচার হত। তবু ভালোবেসে আমরা অনেক খুশি ছিলাম। ২০০৯ তে আমার দিদি মারা যাওয়ার পর থেকে আমি ভীষণ উশৃঙ্খল জীবনযাপন শুরু করি। বিতর্ক আমার জীবনে সবসময়ই ছিল, আমি নিজেও ভীষণ খারাপ একটা মানুষ হয়েগেছিলাম, পায়েলকে ভালবাসার সত্ত্বেও ওর ওপরে আমি অনেক মানসিক অত্যাচার করেছি। পায়েল আমাকে শোধরানোর অনেক চেষ্টা করেও যখন কিছু করতে পারল না, ২০১৩ এর শেষের দিকে আমার জীবন থেকে হঠাৎই সরে গেল। ও চলে গেছিল অভিমান করে, দূরে গিয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। এই কথাটা ও আমাকে কিছুদিন আগে জানিয়েছে। কিন্তু আমি ওকে আটকানোর চেষ্টা করিনি, করিনি বললেও ভুল হবে। আমি সেই সময় প্রচন্ড ভেঙে পড়েছিলাম। একেতে বয়স অল্প, মাথাতে ভারি বুদ্ধি ছিলনা। বুঝতে পারছিলামনা কি করা উচিৎ। তবে আমি নিজেকে শোধরাতে শুরু করেছিলাম। একটা শৃঙ্খল জীবনে আসতে চাইছিলাম। সমস্ত নেশা ছাড়তে শুরু করেছিলাম। সত্যি কথা বলা একটা অভ্যাস, আমি খুব আস্তে আস্তে থেমে থেমে কথা বলতে শুরু করেছিলাম যাতে কোনো মিথ্যে কথা না বলি মুখ দিয়ে, কারণ মিথ্যে কথা বলা আমার মধ্যে সহজাত ছিল। আমি আস্তে আস্তে মিথ্যে কথা বলা একেবারেই ছেড়ে দিই। পায়েল যাওয়ার পরে আমার জীবনে আরো বারোটা মেয়ে আসে। কিন্তু কারোর সাথেই সম্পর্ক টেকেনি, কারণ শান্তি পেতামনা কারোর কাছে। পায়েল কে খুব মনে পড়ত। এইসব কথা লুকোনোর নয়, এগুলো আমার জীবনে ঘটেছে, এগুলো ভীষণ রকমই সত্যি। আমি কখনো কারোর কাছে লুকোইওনা। এখনও হয়ত পায়েলের জন্য আমার মনে কোথাও কোনো জায়গা আছে, কিন্তু ওকে আমি আর হয়ত মেনে নিতে পারবোনা। ওউ আমাকে আর মেনে নিতে পারবেনা। আমার না মানার কারণ আমি পায়েলকে চিনতাম একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে, এখনকার পায়েল বড্ড গুটিয়ে থাকা, হিসেব কষা একটা মেয়ে। আর এমন হিসেব কষা মানুষের জীবনে আদর্শ যদি কিছু থেকে থাকে, সেটা শুধুই নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য। আমার আদর্শের সাথে এটা কখনই মিলবেনা। এতগুলো কথা বললাম, কারণ আজ আমি এক বোনের কাছথেকে শুনলাম পায়েলকে যে আমি ভীষণ ভালোবেসেছি, এটা মিথ্যে। সে আমাকে হয়ত ভুল বুঝেই কথাটা বলেছে। আমি ভীষণ সাহস আর গর্বের সাথে বলতে পারি, গত তিনবছরে আমি যে সত্যি বলার অভ্যাস করতে শিখেছি, সেখানে আর কোনো মিথ্যে নেই। আমার আদর্শের রাস্তাতেও কোনো মিথ্যে থাকতে পারেনা। ছোট থেকে একটা ভয়ানক উশৃঙ্খল জীবনে পা রাখলেও, আজকের সৌম্যজিৎ দত্ত সম্পূর্ণ আলাদা একটা মানুষ। নিজের করা ভুলগুলো থেকে আমি শিখেছি, আদর্শের জীবনে চলতে শুরু করেছি তসলিমা নাসরিনের আদর্শকে দেখে, তার সততাকে দেখে।
**********************************************************************************************************************
পায়েল আমার জীবনে প্রথম প্রেমিকা হয়ে এসেছিল। আমরা অনেক ছোট থেকে একে অপরকে চিনতাম। ২০০৩ এ আমি বারো বছর বয়স এর একটু বেশি হবো, ক্লাস নাইনে পড়ি, আমি পায়েলকে ভালোবেসে ফেলি। ওই সময় অন্য একটা মেয়ে আমাকে পছন্দ করত বা ভালবাসত কিছু একটা হবে যার জন্য পায়েল আমার কাছে আসতে চায়নি। অনেক টানাপোড়েন, অনেক মান অভিমান ও বিতর্কের পর ২০০৬ তে পায়েল আমাকে প্রপোজ করে। আমরা অনেক খুশি ছিলাম। দুজনের বাড়ি থেকে আমাদের সম্পর্ক কেউ মেনে নেয়নি। আমার ওপর অনেক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন হত, পায়েলের ওপরেও মানসিক অত্যাচার হত। তবু ভালোবেসে আমরা অনেক খুশি ছিলাম। ২০০৯ তে আমার দিদি মারা যাওয়ার পর থেকে আমি ভীষণ উশৃঙ্খল জীবনযাপন শুরু করি। বিতর্ক আমার জীবনে সবসময়ই ছিল, আমি নিজেও ভীষণ খারাপ একটা মানুষ হয়েগেছিলাম, পায়েলকে ভালবাসার সত্ত্বেও ওর ওপরে আমি অনেক মানসিক অত্যাচার করেছি। পায়েল আমাকে শোধরানোর অনেক চেষ্টা করেও যখন কিছু করতে পারল না, ২০১৩ এর শেষের দিকে আমার জীবন থেকে হঠাৎই সরে গেল। ও চলে গেছিল অভিমান করে, দূরে গিয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। এই কথাটা ও আমাকে কিছুদিন আগে জানিয়েছে। কিন্তু আমি ওকে আটকানোর চেষ্টা করিনি, করিনি বললেও ভুল হবে। আমি সেই সময় প্রচন্ড ভেঙে পড়েছিলাম। একেতে বয়স অল্প, মাথাতে ভারি বুদ্ধি ছিলনা। বুঝতে পারছিলামনা কি করা উচিৎ। তবে আমি নিজেকে শোধরাতে শুরু করেছিলাম। একটা শৃঙ্খল জীবনে আসতে চাইছিলাম। সমস্ত নেশা ছাড়তে শুরু করেছিলাম। সত্যি কথা বলা একটা অভ্যাস, আমি খুব আস্তে আস্তে থেমে থেমে কথা বলতে শুরু করেছিলাম যাতে কোনো মিথ্যে কথা না বলি মুখ দিয়ে, কারণ মিথ্যে কথা বলা আমার মধ্যে সহজাত ছিল। আমি আস্তে আস্তে মিথ্যে কথা বলা একেবারেই ছেড়ে দিই। পায়েল যাওয়ার পরে আমার জীবনে আরো বারোটা মেয়ে আসে। কিন্তু কারোর সাথেই সম্পর্ক টেকেনি, কারণ শান্তি পেতামনা কারোর কাছে। পায়েল কে খুব মনে পড়ত। এইসব কথা লুকোনোর নয়, এগুলো আমার জীবনে ঘটেছে, এগুলো ভীষণ রকমই সত্যি। আমি কখনো কারোর কাছে লুকোইওনা। এখনও হয়ত পায়েলের জন্য আমার মনে কোথাও কোনো জায়গা আছে, কিন্তু ওকে আমি আর হয়ত মেনে নিতে পারবোনা। ওউ আমাকে আর মেনে নিতে পারবেনা। আমার না মানার কারণ আমি পায়েলকে চিনতাম একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে, এখনকার পায়েল বড্ড গুটিয়ে থাকা, হিসেব কষা একটা মেয়ে। আর এমন হিসেব কষা মানুষের জীবনে আদর্শ যদি কিছু থেকে থাকে, সেটা শুধুই নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য। আমার আদর্শের সাথে এটা কখনই মিলবেনা। এতগুলো কথা বললাম, কারণ আজ আমি এক বোনের কাছথেকে শুনলাম পায়েলকে যে আমি ভীষণ ভালোবেসেছি, এটা মিথ্যে। সে আমাকে হয়ত ভুল বুঝেই কথাটা বলেছে। আমি ভীষণ সাহস আর গর্বের সাথে বলতে পারি, গত তিনবছরে আমি যে সত্যি বলার অভ্যাস করতে শিখেছি, সেখানে আর কোনো মিথ্যে নেই। আমার আদর্শের রাস্তাতেও কোনো মিথ্যে থাকতে পারেনা। ছোট থেকে একটা ভয়ানক উশৃঙ্খল জীবনে পা রাখলেও, আজকের সৌম্যজিৎ দত্ত সম্পূর্ণ আলাদা একটা মানুষ। নিজের করা ভুলগুলো থেকে আমি শিখেছি, আদর্শের জীবনে চলতে শুরু করেছি তসলিমা নাসরিনের আদর্শকে দেখে, তার সততাকে দেখে।
No comments:
Post a Comment