সাতাশে বৈশাখ।
সৌম্যজিৎ।
সেদিন ছিল সাতাশে বৈশাখ,
ভীষণ ঝড় আর আকাশ ভাঙা বৃষ্টিতে থৈথৈ করছিল রাস্তাঘাট, খরে নদী, পুকুর,
মুখ ভার করে সবাই দুশ্চিন্তায় মগ্ন ছিল,
ডাক্তার বলেছিল, "অবস্থা ভালো নয়, মায়ের শরীর ভীষণ খারাপ,
সন্তান আর আলো দেখতে নাও পারে,
নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই সন্তানকে বার করে আনতে হবে,
আপনারা শক্ত হন।"
রাত এগারোটার সময় সন্তানের জন্ম হল,
কোনো সাড়া নেই, শব্দ নেই, চোখ বন্ধ,
মায়ের চোখে তখন শরীরের যন্ত্রণা ছাপিয়ে মনের যন্ত্রণা ঠিকরে বেরোচ্ছে।
ডাক্তাররা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করে দেয়, নতুন প্রাণটাকে বাঁচাতে।
আটচল্লিশ ঘণ্টার চিকিৎসার পর প্রথম সে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে,
সকলের মুখে হাসি ফুটিয়ে জানান দেয় সে বেঁচে আছে, বেঁচে থাকবে।
শিশুটি বাঁচল, বড় হল, কৈশোর পার করে
ভরা যৌবনে এসে এক আদর্শের মানুষের লড়াইয়ে মুগ্ধ হল,
নিজের জীবনের প্রতিটা পর্বে সে কাটা ছেঁড়া বিশ্লেষণ করে,
ভুল সংশোধন করে সেই আদর্শের মানুষটার আদর্শকেই
নিজের জীবনের একমাত্র দর্শন ভেবে পথ এগোতে শুরু করলো।
প্রতিটা প্রশ্বাসে, প্রতিটা চিন্তাতে, প্রতিটা আওয়াজে, প্রতিটা কথায় তার কাছে শুধু একটাই নাম, -
"তসলিমা নাসরিন" যেন ধমনী, শিরাতে রক্তের গরম স্রোত বইয়ে দেয়,
"তসলিমা নাসরিন" এই একটা নাম তাকে দূর করে রাখে
সমস্ত অন্যায় থেকে লক্ষ কোটি মাইল দূরে,
"তসলিমা নাসরিন" এই একটা নাম তাকে মাতিয়ে রাখে সমস্ত প্রেমে, ভালবাসায়।
এক সাতাশে বৈশাখ যখন সে তার আদর্শের মানুষটার কাছ থেকে
শুভ জন্মদিনের শুভেচ্ছা পেয়েছিল,
পূর্ণতা পেয়েছিল সেদিন তার জন্ম।
আমি সারাজীবন সেই আদর্শের মানুষটার স্নেহ, ভালবাসায় থাকতে চাই,
সমস্ত দিনগুলোতে আমি মানুষটার ছোঁয়া পেতে চাই,
সমস্ত সাতাশে বৈশাখ সেই ভালবেসে বলা "সুস্থ, সুন্দর বেঁচে থাকো" কথাটার স্বাদ পেতে চাই।
তোমার শুভেচ্ছা, ভালবাসা ছাড়া আমার জন্মদিন কখনো পূর্ণ হবেনা,
মনে রেখো মেয়েমা।
No comments:
Post a Comment