Saturday, 19 September 2015

চোখ নদীতে জল
অকারণে করে টলমল ,
জানে অদৃষ্ট লিখন বিধাতায়।

আজ যদি আমি এমন কোনো গল্প লিখি, হিরো, হিরোইন এর না মেলার কাহিনী, তবে তোমরা কি ভাববে? তবে লিখি।

একটা উচ্চমাধ্যমিক পাশ করা ছেলে, যে সবে কলেজে এডমিশান নিয়েছে, ইংলিশ অনার্স এ। কলেজের কাছেই একটা হোস্টেল পেয়েছে। স্বপ্ন হাজার রকমের। যাইহোক, পড়াশোনাতে সে খুবই ব্যস্ত। কলেজে আসতেই প্রথম দিন থেকে দেখলাম, সামনের বেঞ্চ থেকে একটা মেয়ে আমাকে ফলো করতে থাকে, বেশ কয়েকমাস ধরে ফলো করে। হঠাত করে আমি একদিন তাকে জিজ্ঞাসা করি, আমাকে ফলো করছো কেন? মেয়েটা হাসে। তারপর আমিও আস্তে আসতে তার প্রেমে পড়তে থাকি।

একদিন ক্লাসে আমি আর মেয়েটা সবার আগে চলে আসি, দুজনে কথা বলছি, হঠাত একটা ছেলে এসে মেয়েটাকে বাজে বাজে ইঙ্গিত দিয়ে কথা বলতে থাকে, মেয়েটা অস্বস্তিতে পরে যায়।  আমি খুব রেগে যাই, ছেলেটার মাথায় একটা চাটি মারি, ছেলেটা ছিটকে গিয়ে বেঞ্চের ওপর পরে ততক্ষনাত মরে যায়। আমি ছেলেটার গায়ে মাথায় হাত দিয়ে সেটা বুঝতে পারি, আমার হাতে রক্ত লেগে যায়, মেয়েটা নিজের ওরনা  দিয়ে আমার হাতের সব রক্ত মুছিয়ে দেয়। তারপর ওই রক্ত নিজের হাতে নিয়ে সবদোষ নিজের ওপরে নেওয়ার চেষ্টা করে। কলেজের ছেলে মেয়েরা জমা হওয়ার আগে আমি ওকে বলি, "আমরা দুজন যদি ফেসে যাই, তাহলে আমাদের বাড়ির লোকজনদের দ্যাখাশোনা কে করবে? তাই, আমি দোষ নিয়ে যাবো, আমি ফিরে আসবো, তুমি সবাইকে দেখে রেখো।"


যথারীতি স্টুডেন্টসরা আসার পর পুলিশ কেস হয়, পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে কোর্ট এ চালান দেয়। কোর্ট আমাকে সেল্ফ ডিফেন্স এর আওতায় বেকসুর খালাস দেয়, আমি ফিরে আসি, মেয়েটার সাথে আনন্দে দিন কাটাতে শুরু  করি।

ইতিমধ্যে আমার একটা বেস্ট ফ্রেন্ড হয় কলেজে, আমরা ঘুরতে যায়।  ঘুরতে গিয়ে দেখি, আমরা সেই জায়গায় আসি, যেখানে ওই মৃত ছেলেটার বাড়ি। ওর বাড়ির লোক আমাকে মারার প্ল্যান করে।  আমাকে একটা গুদাম ঘরে নিয়ে গিয়ে ঘর অন্ধকার করে, ওরা সবাই চাপাতি নিয়ে আসে ১০-১২ জন মিলে। গল্পের গরু গাছে ওঠে, সেই কৌশলে আমি ওখান থেকে বাঁচার জন্য ওদের ভূতের ভয় দ্যাখাতে শুরু করি, সিলিং ধরে আমি একপাশ থেকে অন্যপাশে যাই, অন্ধকারে কাজটা এমন ভাবে করি, ওরা সত্যি ভূত ভেবে ভয় পায়, ও ছোটাছুটি করতে থাকে ঘরময়। সেই সুযোগে আমি ওখান থেকে বেরিয়ে যায়।  বিকেলে আমার ওই প্রেমিকাকে সময় বলে একটা নদীর ধরে আসতে বলেছিলাম, তাই আমি সেই নদীর ধরে যাই, গিয়ে মেয়েটাকে খুঁজে পায়না। চারিদিকে খুঁজে কোথাও পাইনা।

দুরে দেখি কতজন ছেলে ড্রাগ নিচ্ছে, আমি ওদের কাছে গিয়ে দেখি, ওরা বলাবলি করছে, ওরা একটা ছেলে আর মেয়েকে গলা টিপে মেরে পাশের ডোবায় ফেলে দিয়েছে, ওরা বলছে, "মেয়েটাকে ওরা সম্ভোগের প্রস্তাব দিয়েছিলো, মেয়েটা ওদের থাপ্পর মারে, তারপর ওরা মেয়েটাকে জোর করতেই, একটা ছেলে ওদের বাধা দেয়। তখন ওরা ছেলে আর মেয়েটাকে গলা টিপে মেরে পাশের ডোবায় ফেলে দেয়। "

আমি এসব শুনে আঁতকে উঠি, আমি পাশের ডোবার মধ্যে নেমে যাই, দেখি, দেখতে দেখতে দুটো লাশ খুঁজে পাই, হা: ভগবান, এ যে সে, আমার মণি, আর রাহুল। ওরা ওদের নৃসংশ ভাবে মেরেছে। আমি আঁতকে উঠতেই আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।

আমি ওপরের যে গল্পটা বললাম, সেটা আমি গতকাল রাতে স্বপ্নে দেখেছি, খুব ভয়ঙ্কর ও বিরহের। প্রায় প্রতি রাতে এমন সব স্বপ্ন দেখে আমি ক্লান্ত হয়ে উঠছি।  কবিতার কোটেশনটা আলো ঘোষ ম্যামের লেখা, পুরো কবিতাটা পড়তে চাইলে, তোমরা ওনার প্রোফাইল দেখো।

No comments:

Post a Comment