লক্ষ্যপথে।
নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা
নাসরিনকে।
সৌম্যজিৎ দত্ত।
গভীর তৃষ্ণা এ বুকে,
ছুটে যেতে চায় অধরা কোনো প্রান্তরে,
যা কেউ কখনো ছোঁইনি তাইই ছুঁতে চায় এ প্রাণ,
চারিদিক অন্ধকার হয়ে আসে ছুটতে ছুটতে, তবু
এ ছোটার হয়না কোনো শেষ।
বড় একা একা এ পথ চলা,
নিঃসঙ্গ বুক, একদম ফাঁকা,
কেউ নেই যে দিতে পারে সাথ।
লক্ষ্য এখনও অলক্ষ্যের ঘেরাটোপ হয়নি পার,
তবু এ প্রাণ দুর্নিবার,
শুধু ছুটে যেতে চায়।
তুমি কি দেখছ হে প্রাণপ্রতিম ঈশ্বর,
তুমি কি আমার অলক্ষ্যে আমায় লক্ষ্য করছ!
তুমি তো জানো অন্যায়ের বেড়াজাল ছিন্ন করে আমি বেরোতে চেয়েছি,
আমি চেয়েছি এক আদর্শের পথে ন্যায়কে রক্ষা করতে,
আমি চেয়েছি এক সত্যকে সবার বুকে অঙ্কুরিত করতে,
আমি চেয়েছি সকাল জেগে দেখা প্রথম সূর্যকে সবার মাঝে আহ্বান
করতে।
বড্ড একা হয়ে গেছি সবার মাঝে থেকেও,
হাঁপিয়ে উঠেছি,
শরীর, মন, প্রাণ -
কাট ফাটা রোদ্দুরে শুকিয়ে প্রবল তৃষ্ণায় মরি মরি করছে,
এরপরও নিস্তার নেই।
প্রবল আশা আর অধরা সেই স্বপ্নকে ছুঁতে -
আমি ছুটেই চলেছি আজও।
- সৌম্যজিৎ।
মৃত্যুকে ভয় নাই মোর,
জন্মেছি, মৃত্যুও হবে কখনো,
ভয় হয় বড্ড নিজেকে যেন মাথা নত করে থমকে না যাই,
থমকাতে আমি আসিনি।
যুদ্ধ চেয়েছি বাঁচতে আমি
ভিক্ষার জীবন চাইনা,
পারবো না তোমাদের জুলুম মানতে,
পারবো না তোমাদের পা চাঁটতে,
পারবো না মাথা নত করতে আমি,
সস্তার জীবন চাইনা।
মূল্য চাই জীবনের,
মূল্যবোধের স্বাধীনতা নিয়ে আমি বাঁচতে চাই,
আমি বাঁচতে চাই মাথা উঁচু করে শতকোটি সম্মানে,
আমি বাঁচতে চাই -
জনমানসে হৃদয়জুড়ে,
অশুভ শক্তির সামনে হুঙ্কার হয়ে।
- সৌম্যজিৎ।
সূর্যমণ্ডলী তসলিমা।
তুমি কেমন করে লেখো আদর্শ লেখা!
শিরায় - মজ্জায় বাহিত হয়,
রক্তকণিকায় মিশে থাকা বদ - দূষিত রক্ত ধ্বংস হয়ে যায় সেই আদর্শে,
আমি প্রাণ ফিরে পাই।
ফিরে পাই সজীবতা, যেন
চারিদিকে শুধু মুক্তি আর মুক্তবাতাসের ঘ্রাণ,
জীবনীশক্তি হঠাৎই যেন বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়।
কোথা থেকে তুমি শুরু করো এই আদর্শ লেখা!
তোমার মগজ কি এতটুকু মানেনা বাধা যত আছে -
এ সংসারে!
পুরুষতন্ত্রকে তুমি পায়ের জুতোর নিচে মাড়িয়ে দাও নিমেষেই,
সমাজের গড়া নিয়মে তুমি খুঁজে পাও বেনিয়মের বেড়া,
কোথা থেকে আসে তোমার এত চিন্তা!
যা'কিছু বলো,
যা'কিছু তুমি করো, সবেতেই আমি
খুঁজে পাই মহাকাশজুড়ে থাকা
অক্সিজেনের রাশিমালা,
যেন কোথাও নেই দূষণ,
কোথাও নেই প্রাণ জর্জরিত করা বায়ুমণ্ডল,
কোথাও নেই মৃত্যু,
শুধু খুঁজে পাই জীবন,
খুঁজে পাই এক নতুন সূর্য আলোকিত করছে
শিক্ষায়, চিন্তায়,
প্রেমে,
ভালবাসায়।
তোমারই মধ্যে আমি দেখি সেই সূর্যকে উদিত হতে,
জ্ঞানের আলোক বিচ্ছুরিত হচ্ছে তোমারই চেতনা থেকে।
কেমন করে তুমি এত তেজস্বী হলে
আমার লেখিকা!
- সৌম্যজিৎ।
উৎসর্গ- নির্বাসিত লেখিকা, তোমাকে।
সেই কত হাজার যুগ পার হয়ে গেছে
তোমার সাথে আমি হাঁটিনি রাস্তায়,
সেই কত হাজার যুগ পার হয়ে এসেছি আমরা,
তুমি ঘুরে বেড়াও পৃথিবীজুড়ে,
আমার দৌড় ওই এয়ারপোর্ট থেকে শুরু হয়ে শেষ হয়ে যায় আলিপুরে।
আমি বুঝি কি ভীষণ অভিমান হয়েছে তোমার, -
আমার প্রতি,
সেদিন যখন চারিদিকে হইহই রব তুলে ওরা ছিনিয়ে নিল তোমার থেকে
ভালোবাসার ভাষার শহরটাকেই,
সেদিন আমি চুপ হয়েছিলাম,
তোমাকে অপমানিত হতে দেখছিলাম চোখের সামনে,
সেদিন সত্যিই আমি ভ্রুক্ষেপ করিনি তোমার অসহায়তাতে,
শিরদাঁড়াকে সোজা করতে পারিনি সেদিন।
কাপুরুষের মত মাথা নিচু করে শুধু নিজেরটুকু ভেবেছিলাম,
ভেবেছিলাম আমি অন্তত একটুখানি বাঁচি,
অপমানিত হয়ে হলেও,
দাঙ্গা, মারামারি, লজ্জাকে মাথা
পেতে স্বীকার করে নিয়ে হলেও
আমি একটুখানি বেঁচে থাকি কোনো এক কোণায় বদ্ধ বাতাসে, অন্ধকারে।
বুঝিনি তখন, এ বাঁচা বাঁচা নয় আমার,
এ বাঁচায় আমার অহঙ্কার নেই, বীরত্ব নেই, প্রাণবায়ু
নেই,
এ বাঁচা শুধু নিজেকে তিল তিল করে শেষ হতে দেখার জন্য বেঁচে থাকা,
এ বাঁচা শুধু প্রতিমুহূর্তে লজ্জায় মাথা হেঁট হতে দেখার জন্য বেঁচে থাকা।
আমি প্রতিমুহূর্তে বাঁচার পরিবর্তে একটু একটু করে নিভে যাচ্ছি,
নিভে যাচ্ছি শিরদাঁড়াকে সোজা রেখে সেদিন তোমার জন্য মাথা উঁচিয়ে রাখতে পারিনি
বলে,
আমি প্রতিমুহূর্তে শেষ হয়ে যাচ্ছি আমার সেদিনের কাপুরুষত্বের জন্য।
কত যুগ!
কত হাজার যুগ পার হয়ে গেছে তোমার সাথে আমি মিশিনি ...
- সৌম্যজিৎ।
হে মানবী,
আদর্শে আদর্শে ছুঁয়ে গেছ আমার হৃৎপিণ্ড,
শিরা, ধমনী,
তোমার স্নেহের আঁচলে টান দিয়ে আমি প্রার্থনা করি,
"আমি যেন বাঁচি তোমার নামে, তোমার আদর্শে,
আমি যেন মরি এ আদর্শকে বাঁচিয়ে রেখে।"
একটা চাওয়া আমার অপূর্ণ থেকেছিল সেদিন -
অন্তত কুড়ি বছর দেরীতে জন্মেছিলাম,
শেষ চাওয়াটুকু আমি সম্পূর্ণ পেতে চাই
তোমারই স্নেহে থেকে ..
- সৌম্যজিৎ।
No comments:
Post a Comment