নিজের জন্য প্রতিবাদ আমি খুব কম সময়েই করেছি। যখনই প্রতিবাদ মুখর হয়েছি, লেখিকা তসলিমা নাসরিনের প্রতি অন্যায় হলে আমি কথা বলেছি, লিখেছি। কিন্তু সেসবের মধ্যেও আমার ভাষাকে আমি সবসময় সংযত রেখেছি, কোথাও অশ্লীল ভাষার প্রয়োগ করিনি। আজ আমার নিজের জন্য বা আমার ও তনুশ্রীর সম্পর্কের জন্য আমি প্রতিবাদ করতে চাইছি। কয়েকদিন আগে আমি আমার ও তনুশ্রীর কিছু ভালো ও আনন্দের মুহূর্তের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলাম। দুজনের একসাথে তোলা ছবি ও চুমুর সুন্দর দৃশ্যের ছবি পোস্ট করেছিলাম। আমাদের দুজনের ইচ্ছাতেই পোস্ট করেছিলাম। এটা আমাদের স্বাধীনতা। আমরা এমন ছবি পোস্ট করতে কখনো দ্বিধা বোধ করিনা। কারণ আমাদের চিন্তা ও ভাবনাতে গোঁড়ামি নেই। কিন্তু সেই ছবিতে এক গোঁড়া ধার্মিক, ইস্কনিস্ট বিরূপ মন্তব্য লেখে। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। একজন মেয়ের সাথে ২০১৪-১৫ তে আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল, ছেলেটা তারই ভাই। সে আমার ও তনুশ্রীর সম্পর্ককে খারাপভাবে মন্তব্য করে, ও সেই মন্তব্য পড়ে আমার বেশকিছু বন্ধু প্রতিবাদ করে, ছেলেটাকে অপমান করে। তারপরও আমি তাকে ছোট ভাই বলে, ভালোবেসে বোঝানোর চেষ্টা করি, উত্তেজিত না হয়ে স্নেহ করেই বোঝানোর চেষ্টা করি। আমি ভেবেছিলাম ঘটনাটা সেখানেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সেটা হয়নি, আজ সকালে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরে দেখি ছেলেটা আমার ও তনুশ্রীর ছবি অনুমতি ব্যতীত স্ক্রিনশট করে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে পোস্ট করেছে। আমি তাকে কমেন্ট করে আবারও বুঝিয়ে বলি, তার দিদিকেও বলি। কোনো কাজ হয়নি তাতে। তার দিদি আমাকে বলেছে যে আমি নোংরামি করেছি, তাই যেন ভয় না দেখাই। বুঝতে পারলাম না যে কেন এমনটা ওরা করল। ছেলেটার দিদির সাথে আমার একবছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমি তখন সদ্য আমার প্রথম প্রেম থেকে বিচ্যুত হয়েছিলাম। অনেকগুলো বছর একসাথে ছিলাম, তাই স্বভাবতই আমি সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াটাকে মেনে নিতে পারছিলাম না, কষ্ট পাচ্ছিলাম। সেই মুহূর্তে ছেলেটার দিদির সাথে আমার একটা প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়, আমি তাকে কখনো জোর করিনি সম্পর্কে আসতে। আমি তাকে সবটা খুলে বলেছিলাম, তারপরেই সম্পর্কে এসেছিলাম। কিন্তু সম্পর্কে আসার পরেও, প্রথম প্রেমিকার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও, আমি তাকে ভুলতে পারছিলাম না মন থেকে। মন থেকে একেবারে ভুলে যাওয়াটা সহজ ছিলনা আমার পক্ষে। আমি আমার মনের মধ্যে প্রতিমুহূর্তে লড়াই করেছি, ভোলার জন্য লড়াই করেছি। কিন্তু পুরোনো স্মৃতিগুলো বারেবারে মনে এসে যেত। আমি ভেবেছিলাম সময় লাগবে, ঠিক হয়ে যাবে সবটা। ইতিমধ্যে এই ছেলেটার দিদি আরেকটি ছেলের সাথে জড়িয়ে যায়, আমি বুঝতে পারিনি প্রথমে। আমাকে জানায়নি সে। আমি যখন জানতে পারি, উত্তেজিত না হয়ে, মেয়েটাকে ডেকে পাঠাই, তাকে বুঝিয়ে বলি ও সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসি। এই পর্যন্ত ছিল সেই মেয়েটার সাথে আমার সম্পর্ক। এই একটা বছরের সম্পর্কে আমরা বেশ কয়েকবার কাছাকাছি এসেছিলাম, ঘুরেছিলাম, এখন সেসব অতীত। আমি তনুশ্রীর সাথে ভীষণ খুশি, সারাজীবন এভাবেই থাকতে চাই। এতে তো কারোর কিছু বলার থাকে না। হ্যাঁ আমাদের পরিবার কথা বলতেই পারে, কিন্তু এর পরে আর তো কেউ কিছু বলতে পারে না। সেখানে বাইরের থেকে কোন অধিকারে ওরা আমার প্রফাইল থেকে ছবি নিয়ে পোস্ট করে!!
আসন্ন নেট পরীক্ষার পরীক্ষার্থী আমি। ছাত্র হিসেবে দেশের মধ্যে সম্মানজনক স্থানে পড়াশোনা করেছি, সেখানে কাজ করছি। এইমুহূর্তে পরীক্ষার ঠিক আগে আমাকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে আমাকে বিব্রত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে কিছু মানুষ, ওরা তাদের মধ্যেই। তনুশ্রীর সাথে আমি আলোচনা করলাম, ও একটা সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি যে আগামীকাল আমি প্রশাসনের কাছথেকে সাহায্য চাইবো। আমার সম্মান ও দেশের সর্বচ্চ পর্যায়ের পরীক্ষার পরীক্ষার্থী হিসেবে আমার মানসিক ভীতে যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেইদিক বিচার করে প্রশাসন আমার পাশে এসে দাঁড়াবে বলে আশা করি। ছাত্রছাত্রীদের প্রতি আমি সবসময় স্নেহশীল, তাই ছেলেটার যাতে ক্ষতি নাহয়, সে কথা ভেবে আমি চুপ করেছিলাম, কিন্তু এখনও যদি আমি চুপ করে থাকি, সেটা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে। দেশের একজন সৎ নাগরিক হয়ে আমি অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে পারিনা।
No comments:
Post a Comment