অগ্নি উৎস - তোমায় সেলাম ..
উৎসর্গ - অগ্নি উৎস তসলিমা নাসরিনকে।
কোন আদর্শে গড়া তুমি তসলিমা নাসরিন!
যে দেশে প্রতিনিয়ত হিংসা, মারামারি অন্ধকারাচ্ছন্ন কুসংস্কার ছড়িয়ে ছিটিয়ে,
যে দেশে শুধু জাতীয় সংগীতটুকু বাদ দিলে, মানুষ মানুষের মধ্যে ভেদাভেদে মেতে ওঠে,
যে দেশে "আপন ধর্মই বড়, বাকি সব তুচ্ছ" মানসিকতায় মানুষ বেড়ে ওঠে,
এমন এক দেশে জাতীয় প্রেম বুকে নিয়ে, ধর্মকে অবজ্ঞা করার সাহস তুমি কোথায় পেলে!!
যে দেশে আজও নারী শুধুই ঘর সামলানোর যন্ত্র আর পুরুষ অগ্রগতির বাহক,
নারী ঘরে থাকলে লক্ষী, বাইরে বেরোলেই বা বড় রাস্তা একা পেরোলেই অসভ্য, চরিত্রহীনা হয়,
যে দেশে পুরুষ মানেই সংসার কর্তা, পুরুষ মানেই বুদ্ধিমান, নারী বুদ্ধিহীন,
যে দেশে হিজাব পরিয়ে নারীকে জোর করে বুদ্ধিহীন করে রাখা আজও কঠোর নিয়ম,
এমন এক দেশে তোমার মতো নারী কোন আদর্শে গড়ে উঠেছিল তসলিমা নাসরিন!!
তসলিমা নাসরিন তুমি কোন হৃদয়ে গড়া!
ধর্মের গোঁড়ামি যখন তোমাকে আকণ্ঠ বিষ পান করিয়ে মারতে চাইছে,
গোটা দেশ তোমাকে রাস্তায় পুড়িয়ে, কেটে, ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে বা ধর্ষণ করে মারতে চাইছে,
নিজের প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে এদিক ওদিক অন্ধকারে ছুটে বেরিয়েও-
তুমি আদর্শকে ত্যাগ করতে পারোনি,
পারোনি নিজের অস্তিত্বটুকু বিলিয়ে দিতে,
ভয়ঙ্কর সেই আগুন জ্বলা পরিবেশ থেকে পালিয়ে তুমি দেশ ছাড়তেও চাওনি,
চেয়েছ দেশের গোঁড়ামি দূর করে দেশকে সত্যিকারের অগ্রগতির দিকে নিয়ে যেতে।
এত সাহস তুমি কোথায় পেলে!!!!
কোনো এক পুরুষও বুঝি এমন সময়ে দেশে থাকার কথা ভাবত না,
ভাবত না আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার চিন্তা।
তুমি ভেবেছিলে,
সেদিন কোর্ট চত্বরে যাওয়ার মুহূর্তেও যখন তুমি নিশ্চিৎ মৃত্যুমুখে এগোচ্ছ ভাবছ,
তখনও তুমি ভেবেছিলে সত্যের প্রতিষ্ঠার কথা।
সেইসব অন্ধকারের নিশ্চিৎ মৃত্যু যখন পদে পদে তোমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে,
আমি সেসব কল্পনাতে অনুভব করেই শিহরিত হই।
কতটা স্থির হৃদয় থাকলে,
কতটা প্রগতিশীল চিন্তার আদর্শ বুকে ধরলে-
কেউ এমন পরিস্থিতিতেও বেঁচে থাকার সাহস দেখাতে পারে!
দেশহীন, বাসস্থানহীন হয়েও,
মাথা গোঁজার ঠাইটুকুর অনিশ্চয়তার মধ্যেও তুমি নিজের আদর্শ থেকে,
সত্যের পথ থেকে, মানব অধিকারের পথ থেকে একচুল জায়গা ছাড়ার কথা ভাবোনি।
কতটা সাহস, কতটা অহঙ্কার থাকলে মানুষ এমন করতে পারে!
অগ্নি উৎস তুমি,
তোমায় সেলাম।
*** সৌম্যজিৎ।
No comments:
Post a Comment