সততা, আদর্শবোধ ও জাতীয়তাবাদ আমাদের ধর্ম।
-------সৌম্যজিত দত্ত।
মা'এর আবদার রাখতে দক্ষিনেশ্বর মন্দিরে পূজো দিতে যাই। আবদার টা ছিল দুটো কারণে। ১. বাইকে করে যাওয়া , ২. মা মানসা করে ছিল কোনো একটা কামনা পূর্ণ হলে, যা আমি জানিনা , তবে মা গঙ্গা তে একটা লাল পেরে শারী, আলতা ও সিন্দুর দান করবেন। এমনিতে বাড়িতে মা ধর্মে বিশ্বাস করে, আমি পুরোদস্তুর ধার্মিক। ঈশ্বরে বিশ্বাসী। কিন্তু আমার ধর্ম বাকি ধর্ম ভীরু মানুষ দের সাথে কখনো মেলেনি। যাইহোক, আসল ঘটনা হলো মা মানসা করেছে, তাই ওই জিনিস গুলো নদীতে দিতে হবে। কিন্তু ওই জিনিস গুলো মা একজন সধবা মহিলা বলে দিতে পারবেনা। এমনটা পুরোহিত এর বিধান। এমনিতে পুরহিত দের সাথে আমার কোনদিন মত মেলেনি। তবু ঈশ্বর এর হয়তো এমন কোনো ইচ্ছা ছিল, কারণ আমার মনের মধ্যে একটা জিনিস বারবার চলে আসছিল, ওই প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো শুধু শুধু জলে যাবে ? যদি কোনো মানুষ কে দান করা যেত, সে উপকৃত হতে পারত।
অতয়েব মা দিতে পারবেনা বলে দায়ভার আমার উপর চলে আসে, আমাকে ওই জিনিস গুলো নদীতে দিতে হবে। আমি প্রথমে গঙ্গা স্নান সেরে জিনিস গুলো নদীতে দিতেই,
স্রোতের টানে ভেসে ওগুলো এক গরীব সধবা মহিলার হাতে চলে গেল। আমি নিশ্চিন্ত হলাম সেখানে।
তার পরই, ভেসে উঠল নিষ্ঠুর কিছু বিচার। সবাই মন্দির এর বারোটা শিব ঠাকুর এর মাথায় দুধ ঢালছে, সেই দুধ পাইপ দিয়ে গঙ্গা তে এসে মিশছে, অথচ মন্দির এর বাইরে এত ভিখারী, তাদের ভাগ্যে শিকে টুকু জুটছেনা। এখানেই শেষ না, পুজারী দের দক্ষিনা জুটছে ১১ টাকা, ৫১ টাকা , ১০১ টাকা ও ৫০১ টাকা করে, কিন্তু আবার তারাই মানুষ কে সামান্য ভুল এর জন্য বড় বড় অভিশাপ দিচ্ছে। বাইরের ভিখারি গুলো ১ টাকা পেলেও ভাল কিছু প্রার্থনা করে আমাদের জন্য।
আসলে আমাদের দেশে পুরোহিত ও পুজারী গুলো একচেটিয়া রাজত্ব করছে। তারা মানুষ এর কাছথেকে এক হাতে দক্ষিনা নিচ্ছে, আবার সরকার তাদের নানা ভর্তুকি দিচ্ছে। অথচ তাদের কাছ থেকে কোনো ট্যাক্স নেওয়া হয়না। তারা যা বিধান দেন, তা যত কঠিন ই হোক না কেন? মানুষ তা মাথা পেতে নেবে।
আমি স্বীকার করি আমি ধার্মিক। কিন্তু আমার কাছে মানুষ ধর্ম সবথেকে বড় ধর্ম। ধর্ম মানুষের মধ্যে চেতনা আনে, কিন্তু যারা ধর্ম কে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে মানুষের ওপর নানা বিধান দেন, তারা কখনো প্রকৃত ধার্মিক হতে পারেনা, তারা ধর্মের নামে অধর্ম করে। সব থেকে বড় অধার্মিক তারা, ভন্ড তারা। কোনো ধর্ম মানুষের অকল্যাণ করতে পারেনা, কিন্তু ধর্ম কে ব্যবহার করে ধর্মের নামে মানুষের ক্ষতি করছে এই অধার্মিক গুলো, আর নিজেদের ফায়দা লুটতে এদের প্রতক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রশ্রয় ও সাহায্য করে যাচ্ছে দেশের বড় বড় রাজনীতিবিদ'রা। এসবের মধ্যে ধুঁকছে আমার দেশ, সাধারন মানুষ।

This comment has been removed by the author.
ReplyDelete